বরখাস্তকৃত অতিরিক্ত পরিচালক © সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মালামাল চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মো. শাহিদুল হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) হাসপাতালের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল হাসপাতালের মালামাল চুরির ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বরখাস্তের কারণ উল্লেখ করে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পিসি হাফিজুল ইসলামকে ডেকে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে হুন্দাই কোম্পানির মালামাল বের হওয়ার মৌখিকভাবে নির্দেশ প্রদান করেন। আপনি এই বিষয়ে কোনো আদেশ আছে কিনা তা যাচাই করেননি। ইহা প্রকল্পের মালামাল হওয়া সত্ত্বেও, আপনি প্রকল্প পরিচালক এবং পরিচালক (এসএসএইচ) ঐদিন উপস্থিত থাকলেও তাকে অবহিত করেননি।’
ডা. শাহিদুল হাসানের এই মৌখিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই ওইদিন সন্ধ্যায় দুই ট্রাক মালামাল হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে আরও বলা হয়েছে, ‘রাত ১১:০০টার সময় আরো চার ট্রাক মালামাল বের হওয়ার সময় স্থানীয়দের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হলে তখনও আপনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি অবহিত করেননি।’
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে আসায় ডা. শাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে কর্তব্য কাজে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি, অধ্যাদেশ ও প্রবিধানের দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী এই বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) কালীন দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১৪ ধারা আপনার প্রতি আরোপিত হবে এবং সে অনুযায়ী আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে বেতন ও ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।’ সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী তার চাকরি নিয়ন্ত্রিত হবে এবং এই আদেশ জারির তারিখ থেকেই তার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।