ঢাকায় কাজ করতে পালিয়ে এসেছিল মাদ্রাসার ৩ শিক্ষার্থী

ঢাকায় কাজ করতে পালিয়ে এসেছিল মাদ্রাসার ৩ শিক্ষার্থী
নিখোঁজ হওয়া ৩ শিক্ষার্থী  © সংগৃহীত

সন্ধান পাওয়া গেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আমজাদ হোসেন নূরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার তিন শিক্ষার্থীর। তাদের একজনকে রাজশাহীর গোদাগাড়ি ও বাকি দুইজনকে সাভার থেকে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে এতিমখানার দায়িত্বরত শিক্ষক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থী রবিউল ও শিপনকে সাভারের নিশ্চিতপুর এলাকায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ওই রাতেই শরিফ বাবুর সন্ধান মেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ি থেকে।

খবর পেয়ে সন্তানদের বাড়ি ফেরাতে পৃথকভাবে ছাত্রদের পরিবার যাত্রা শুরু করে। ইতোমধ্যে রাজশাহী থেকে ভোরে শরিফ বাবুকে বাড়িতে আনা হয়েছে। নিশ্চিন্তপুরে থাকা রবিউল ও শিপনকে ফেরত নিতে তাদের পরিবারও ঘটনাস্থলে গেছেন। আজ তাদের বাড়িতে আনা হবে বলেও জানান তিনি।

রবিউলের বাবা রশিদুল ইসলাম বলেন, ছোলের খোঁজ পাইছি। ওরা এটি (নিশ্চিতপুর ছয়তালা মোড়) আসি রাস্তার কোলা দিয়া বেড়াচ্ছিল। হুট করি হামার ভাস্তে মিজানুরের বউ নারগিস ওমাক দেখি ফেলে।

তিনি আরও বলেন, নারগিস বেগম নিশ্চিতপুর ছয়তালা মোড়ে গার্মেন্টেসে কাজ করেন। স্বামী মিজানুর রহমান ট্রাকচালক। ছয়তালা মোড়ে তারা বসবাস করছেন। দেড় বছর আগে শিপন ওই এলাকার নূরে মদিনা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পড়ত।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রবিউল ও শিপন এতিমখানার রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছিল। এ সময় বাজার করতে যাওয়া নারগিস তাদের দু'জনকে দেখতে পায়। এরপর তাদের সামনে গেলে দৌড় দেয় তারা। পরে তাদের বাসায় নিয়ে গিয়ে বাড়িতে খবর দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থী রবিউল বলেন, শরীফ বাবু কছে ঢাকাত যামো। ওই কচ্ছে, হামরা যায়া কাম করমো হোটলত। হামরা কছি না, মাদ্রাসায় পড়মো। পরে ওই হামাক এটি থুয়ে বাড়িত গেছি।

শিপন মিয়া বলে, ‘হারাই গেছলাম। পলাশবাড়ির ছেলেটা (শরিফ বাবু) আছে না, ওই নিয়ে গেছি নিচিন্তপুর। ওই হোটলত কাম করবের কয়। হামরা কছি কাম করমো না। মাদ্রাসাত পড়মো। পরে হামরা এটি মাদ্রাসাত আছি। ওই বাড়িত যায়।

এদিকে রবিউল ও শিপন বলছে, শরীফ বাবু গাইবান্ধার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়িতে শরীফের সন্ধান পায় তার পরিবার। ঢাকা থেকে গাইবান্ধা না গিয়ে রাজশাহীতে কেন গেল শরীফ তা জানা নেই রবিউল ও শিপনের।

তবে বাড়ি ফিরে শরীফ বাবু বলছে, শিপন আগে ঢাকাত আছিল। মাদ্রাসাত পড়ত। ওই ফির এটি আসি মাদ্রাসাত ভর্তি হচি। ওই রবিউল আর আমাক ঢাকাত নিয়ে গেছে। ওমাক ওটি থুয়ে আমি বাড়িত আসপের ধরি রাজশাহীত আসি। একটা লোক অন্য গাড়িত তুলি দিছিল। এটি আসি (রাজশাহী) মুরগির দোকানদার হামার কাছে নম্বর নিয়ে আব্বুক ফোন দেন।

এর আগে, রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মাদ্রাসায় হুজুরের সঙ্গে ফজরের নামাজ পড়ে রবিউল ইসলাম (১২), শিপন মিয়া (১১) ও শরিফ বাবু (৯) পালিয়ে সাভার যায়। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধান না পেয়ে সোমবার দুপুরে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এতিমখানার দায়িত্বরত শিক্ষক হাফেজ মো. মেহেদী হাসান।

শিক্ষার্থী রবিউল ইসলামের বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার তিলকপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের রশিদুল ইসলামের ছেলে। শিপন মিয়া একই গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে ও শরিফ বাবু পলাশবাড়ী উপজেলার আশমতপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। এরা সবাই এতিমখানায় পবিত্র কোরআনে হেফজ শিক্ষার্থী।

এদিকে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান পেয়ে হাসি ফুটেছে তাদের পরিবারে। এছাড়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্রদের অভিভাবকের মাঝেও ফিরেছে স্বস্তি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ