বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড © সংগৃহীত
ভুল স্বীকার করে বোর্ডের কাছে ক্ষমা চেয়েও শাস্তি এড়াতে পারেননি নরসিংদীর নুরালপুরের গদাইরচর আছিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন। ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগে তাকে পরীক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোর্ডের অধীনে ভবিষ্যতের সব পরীক্ষাসংক্রান্ত গোপনীয় কাজ থেকে তাকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার পরীক্ষক হিসেবে মো. নাসির উদ্দিনের কাছে মূল্যায়নের জন্য ২৫০টি উত্তরপত্র বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে তিনি উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন করে ছাত্রদের দিয়ে উত্তরপত্রের নম্বর যোগ ও বৃত্ত ভরাট করান। পরবর্তীতে উক্ত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হলে তা বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টি পর্যালোচনার পর ওই শিক্ষক ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা সংক্রান্ত একটি লিখিত পত্র বোর্ডে দাখিল করেন।
এতে বলা হয়, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা, নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন পরীক্ষক কর্তৃক ছাত্রদের মাধ্যমে উত্তরপত্রের নম্বর যোগ ও বৃত্ত ভরাট করানো পরীক্ষাসংক্রান্ত বিধি-বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকান্ড পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ও পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করে। যা পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০ মোতাবেক চরম দায়িত্ব অবহেলায় পড়ে।
এতে আরও বলা হয়, পরীক্ষাসংক্রান্ত বিধি-বিধান লঙ্ঘন, দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা এবং পরীক্ষার গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ করার দায়ে মো. নাসির উদ্দিনকে ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার পরীক্ষকের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী (সেটার), মডারেটর, পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষকসহ যেকোনো গোপনীয়, মূল্যায়ন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য মর্মে বিবেচিত করা হলো।
