হাফেজ মন্তাজ উদ্দিন (৭০)। ৫ বছর বয়সে জলবসন্ত রোগে দু’চোখ হারিয়ে চিরতরে অন্ধ হয়ে যান। পরে সংসারের বোঝা সরাতে মা-বাবা তাকে দিয়ে দেন হাফেজি মাদ্রাসায়। চির অন্ধ মন্তাজ উদ্দিন মাত্র ৪ বছরেই ৩০ পারা কোরআন মুখস্ত করে ‘কোরআনে হাফেজ’ হন। বর্তমানে তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের নবীনগর কাসেমুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসার একজন শিক্ষক। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন এই মাদ্রাসায়।
শিক্ষকতার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার জন্য এই মাদ্রাসার ছাত্ররাই তার চলার পথের সাথী। টয়লেটে যাওয়া, গোসল করা, খাওয়া-দাওয়া শয়নে যাওয়া এমনকী কোথাও বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররাই তাকে সাহায্য করে থাকেন। দীর্ঘ দিন ধরে নবীনগর এলাকায় অবস্থান করার কারণে লালমোহনের প্রায় সব কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে ‘অন্ধ হুজুর’ হিসেবে চেনে।
হাফেজ মন্তাজ উদ্দিন মূলত ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ১৯৪৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী ভারতের হুগলী জেলার চন্ডীতলা থানার শিবপুর গ্রামে তার জন্ম। তার পিতা আজাহার আলী ছিলেন পাকিস্তান আমলে ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা। দেশ স্বাধীনের আগে হাফেজ মন্তাজ উদ্দিনের পিতা আজহার আলীর বদলী হন ঢাকায় । সে থেকে স্ব-পরিবারে আজহার আলী ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা হন। ঢাকায় বদলী হওয়ার পরই মন্তাজ উদ্দিনের শরীরে জলবসন্ত ওঠে। এই রোগে দু’চোখ অন্ধ হয়ে যায় তার। পরে ৫ বছর বয়সে মন্তাজ উদ্দিনকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় ঢাকার লালবাগ শাহী মসজিদ জামেয়া কোরানিয়া হাফেজি মাদ্রাসায়। সেখানে ৪ বছরেই কোরআনে হাফেজ হন তিনি। পরে হাফেজ মাওলানা সালাউদ্দিনের সহযোগীতায় ১৯৬৮ সালে হাফেজ মন্তাজ উদ্দিনের প্রথম চাকরি হয় লালমোহন উপজেলার নবীনগর কাসেমুল উলুম মাদ্রাসায়। সেই থেকে আজ অবধি হাফেজ মন্তাজ উদ্দিন শিক্ষকতা করছেন এই মাদ্রাসায়। এর মাঝে ১৯৭০ সালে বন্যার সময় ২-৩ বছর একই উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের মাওলানা আব্দুল বারী সাহেবের হাফেজি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন তিনি।
মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, আমি এই মাদ্রাসায় প্রায় ৩৯ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। অন্ধ হলেও হাফেজ মন্তাজ উদ্দিন আমার সহকারী শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত ভালো একজন শিক্ষক। একদিকে অন্ধ অন্য দিকে এই বৃদ্ধ বয়সেও তার দ্বীনি শিক্ষা দেয়ার ধারা খুবই প্রখর এবং নির্ভুল।