আদালতে রামিসা হত্যার নৃশংসতা বর্ণনা করতেই কেঁদে ফেলেন পুলিশ কর্মকর্তা

০২ জুন ২০২৬, ১১:২৬ PM , আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ১১:২৭ PM
রামিসা ও ঢাকা মহানগর জজ আদালত

রামিসা ও ঢাকা মহানগর জজ আদালত © টিডিসি সম্পাদিত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্যতে উঠে এসেছে ভিকটিমকে ধর্ষণ ও হত্যার লোহমর্ষক বর্ননা। এদিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রামিসার মৃত দেহ উদ্ধার ও নৃশংসতার বর্ননা দিতে দিতে কেঁদে ফেলেন বনানী থানার এস আই ইকবাল হোসেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহনের সময় বিকেলে আদালতে এই ঘটনা ঘটে।  

বনানী থানার এস আই ইকবাল হোসেন সাক্ষ্যতে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কনস্টেবল রুমা আকতার ও শরীফ মিয়াকে সাথে নিয়ে ঘটনা স্থলে দেখতে পায়। আসামির শয়নকক্ষে খাটের নিচে দুই পা দুই দিকে ছড়ানো অবস্থায় লাশ ছিলো। এর উত্তর পাশে বার্জার রঙের বড় কোটায় রামিসার মাথা ছিলো পানির ভিতরে। এবং পাশে গ্রীল কাটা দেখতে পায়। বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে। এরপর আমি সুরতহাল প্রস্তুত করি ও ময়না তদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেযে পাঠিয়ে দিই। 

আদালতকে তিনি বলেন, এদিন ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমের পাশ থেকে  বিভিন্ন আলামত জব্দ করি। বাথরুমের ভিতর থেকে রামিসার গেঞ্জি, প্যান্ট জব্দ করি, এছাড়া বাথরুমের মেঝেতে পড়ে থাকা ধারালো চাকু। সোহেল রানার খাটের নিচে পড়ে থাকা একটি সেলাই রেঞ্জ উদ্ধার করি। ওই বার্জার রঙের বালতিতে আনুমানিক ২৫ কেজি পানি ছিলো। আসামি লোহার তৈরি গ্রীল কেটে পালিয়ে যায়। আসামির মেইন গেটে রামিসার একটা জুতা পা-ও যায়। ঘিয়ে রংয়ের একটি জর্জেট উড়না দিয়ে মুখ বাধা ছিলো রামিসার। এসময় তিনি  কান্না করে দেন। চোখ মুছে। আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ করে হত্যা করে। এরপর হাত কাটে গলা কাটে। এরপর তাকে গুম করার চেষ্টা করে। এরপর ব্যার্থ হয়ে গ্রীল কেটে পালিয়ে যায়। তাকে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।

এদিন আদালতে সাক্ষ্য দেয়া সাক্ষীরা হলেন- শিশুর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন, কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, এসআই ইকবাল হোসেন, চিকিৎসক নাসাদ জাবিন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান। এই মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে একদিনেই ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে। সাক্ষ্য প্রদানের সময় ভিকটিমের বাবা ও মা আদালতের নিকট মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

ট্যাগ: আদালত
বেসরকরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষিত বেকার…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার ২ নারী কারাগারে
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
বদলির জন্য শূন্য পদের তথ্য দেখাবে কবে, জানাল মাউশি
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
এমবিএ প্রোগ্রামে স্কলারশিপ দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো ইউনি…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
যৌন হয়রানি-অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির দায়ে রাবির অধ্যাপক চাকরিচ্…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করছে সরকার…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
nextjobzimage