শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যায় নাম আসা কে এই ‘ডলার’, প্রতিবেশীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

০২ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ AM , আপডেট: ০২ জুন ২০২৬, ০১:২১ PM
শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা এবং ডলার (ইনসেটে)

শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা এবং ডলার (ইনসেটে) © ফাইল ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার ঘটনায় নতুন করে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির নাম এসেছে। তাকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে বারবার তার নাম বলেছেন। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।

যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে এ পর্যন্ত ডলার নামের ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। তবে প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন বলছেন, সোহেল ও ডলার বন্ধুর মতো চলাফেরা করতেন। তারা একে অন্যের বাসায় বা অন্যত্র একসঙ্গে মাদকও গ্রহণ করতেন।

প্রতিবেশী এক নারী বলেন, ‘সে এখানে সোহেলের সাথে থাকতো, ওর সাথে নেশা করতো। ওর সাথে যাতায়াত করতো, এটা সবাই জানে। উনি এখানে থাকেন, আমরা বুঝতে পারছি না আসলে কি সে স্থানীয় নাকি ভাড়া থাকে। এটা সবাই বলছে, একেক জন একেক কথা বলে।’

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ডলারের বাড়ি পল্লবী এলাকায়। যে বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে, তার কয়েকটি বাড়ি পরেই থাকেন তিনি। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ডলার পেশায় অটোরিকশাচালক ও মাদকাসক্ত। একই এলাকায় রিকশার গ্যারেজের মেকানিক হিসেবে কাজ করতো সোহেল রানা। সে সূত্রে তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল।

ডলারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হলেও তাদের পরিবারের অবস্থা ভালো। তাদের বাড়ি রয়েছে। নেশার খরচ জোগাতেই অটোরিকশা চালান। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছোট।

প্রতিবেশী নারী বলেন, ‘সোহেলের সাথে থাকতো। ওর সাথে নেশা করতো। ওর সাথে যাতায়াত করতো। ওনার বাসায় নেশা করতো একসাথে থাকতো। দুজনের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো ছিল। আমরা ১২-১৩ বছর আছি, কিন্তু ডলার কত বছর ছিল জানি না। আমাদের সেভাবে কারো সাথে পরিচয় নেই। কিন্তু ডলার নাম শুনি।’ তিনি বলেন, ‘উনি যদি কিছু করে থাকেন, তাকে নাকি দুদিন আগে দেখা গেছে। দুদিন আগে নাকি রিকশায় দেখা গেছে তাকে।’

ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই ডলারের। নিজের মতো চলাফেরা করেন। মাদকাসক্ত হওয়ায় পরিবারের সদস্যরাও এড়িয়ে চলেন তাকে। রামিসা হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত বলে মত তার।

সোমবার মামলার আসামি সোহেল রানা আদালতে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ‘রামিসাকে ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছেও। আমি শুধু লাশ গুম করতে চেয়েছি। মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে আমাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল ডলার।’

আরও পড়ুন: মৃত্যুর পর মায়ের লাশে পচন, জানেন না বুয়েট শিক্ষক-সচিবসহ সন্তানেরা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেছেন, ‘তদন্ত চলাকালে ডলারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও তার প্রমাণ মেলেনি। ডিজিটাল তদন্তেও তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগপত্রে তার নাম নেই।’

শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। সোমবার সকালে আদালতে হাজির করা হয় মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে। 

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের এজলাসে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। এ সময় তিনি আদালতে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন। 

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরদিন প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট।

অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বাড়াচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: বিএফএসএ
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
ঢাবি অধ্যাপক নাজমুন নাহার আর নেই
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
টানা ৪ বিশ্বকাপের সফল ভবিষ্যদ্বাণী, এবার চ্যাম্পিয়ন হবে কোন…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
বিইপিআরসিতে ইন্টার্নশিপের সুযোগ, মিলবে মাসিক ভাতা
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
এনসিপির জেলা আহ্বায়কের পদত্যাগ
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
চিকিৎসকেরা অপারেশনের পরামর্শ দিলেও করাননি, প্রতিদিন ব্যথা ন…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence