রামিসাকে হত্যায় দুই লাখ টাকা দেওয়া কে এই ডলার?

০১ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ PM , আপডেট: ০১ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ PM
গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা

গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা © সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি শুরু হচ্ছে। আজ সোমবার (১ জুন) সকাল পৌনে ৮টায় দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

পরে সকাল ১১টার পর তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসামি সোহেল রানা। তিনি দাবি করেন, ‘আমি একা দোষী না, আমার স্ত্রীর দোষ নেই। সব দোষ ডলারের। আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার।’

সোহেল আরও দাবি করেন, ‘ডলার দুই লাখ টাকা দিছে।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার ডিএনএ পরীক্ষা না করেই বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা হয়েছে। ‘ডলার’ নামে যাকে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল বলেন, তিনি ‘মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার অনেক টাকাওয়ালা’ ব্যক্তি।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে দুই আসামিকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। এর মধ্যে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র দাখিলের দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরে আদালত ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং আদালতের আমলে নেওয়াসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার দ্রুত বিচার প্রসঙ্গে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে দায়িত্ব পালন করব। বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কথা বলছি না। শুধুমাত্র এ মামলায় নিজের প্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করব।’

আরও পড়ুন: রামিসাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার সোহেলের, হত্যার বিষয়ে দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য

অন্যদিকে মামলার রায় এবং তা কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই বলেন, রামিসার মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রায় কার্যকর করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার ভাষ্য, উচ্চ আদালতের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অনেক সময় মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিলম্বিত হয়। তবে নিম্ন আদালতের পাশাপাশি কারাগারের জেলার ও প্রধান বিচারপতির প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ থাকলে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় ডেথ রেফারেন্সসহ বিভিন্ন ধাপ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে একটি বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার আসামিরা ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

সন্ধ্যার মধ্যে ৮ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
১৯ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের কয়েক জেলায় বন্যার আভাস
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
অপহরণ ও অজ্ঞান পার্টির শিকার আলিম পরীক্ষার্থী, অংশ নিতে পার…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
দেশে বিশ্ববিদ্যালয়-স্কুল-কলেজ তৈরি করতে হবে কর্মক্ষম জাতি ত…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
শিক্ষকের কৌশল নাকি ছাত্রের ধারাবাহিকতা, কার হাতে উঠবে বিশ্ব…
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
কলাপাড়ায় অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence