দুদকের মামলায় এবার জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার

০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০২ PM
মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান

মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান © টিডিসি ফোটো

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই মামলার আসামি জিয়াউল আহসানের স্ত্রী নুসরাত জাহানও। ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

দুদক জানায়, সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের পর মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিয়াউল আহসানকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হলে ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ তা মঞ্জুর করেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর ওই বছর ১৫ অগাস্টে গভীর রাতে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন মামলাসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাদীর টাইপকৃত এজাহার ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় গ্রহণ করে সজেকা, ঢাকা-১-এর মামলা নম্বর ৭৬ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। 

মামলাটি দায়ের করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জিয়াউল আহসান বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইন লঙ্ঘন করে নিজের হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা দেন, যা অনুমোদিত সীমার অনেক বেশি।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে,বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা ও যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেন। এছাড়া জিয়াউল আহসানের নামে থাকা ৮টি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন জিয়াউল আহসান। একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে এই কাজে নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯১-৯২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত জিয়াউল আহসানের বৈধ আয় ছিল প্রায় ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অথচ তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, ব্যয় ও দায় বিবেচনায় জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার বেশি। এ ছাড়াও গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী বর্তমান অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেন।

তদন্তে আরও দেখা যায়, তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে। তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি এতিমখানার ব্যাংক হিসাবেও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়টিও তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তকালে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। মামলার ঘটনাস্থল হিসেবে ঢাকা, বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময়কাল ধরা হয়েছে ১৯৯১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

কারাগারে থাকা জিয়াউল আহসানকে গত ২১ ডিসেম্বর দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার ধার্য করেন। সকালে শুনানিতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠায় আদালত। এ দিন তারপক্ষে ওকালতনামা দাখিল করা হলেও জামিন আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফুর রহমান।

এ ছাড়াও গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী বর্তমান অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করেন।

জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের আবেদনের সুযোগ
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ট্রেনের শেষ বগি থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
প্রথমবারের মতো ৮০ আসনে ভর্তি নেবে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, শর্ত…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ইসরায়েল স্বীকৃত 'সোমালিল্যান্ডকে' প্রত্যাখান বাংলাদেশের
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বায়ুদূষণে ১২৬ নগরীর মধ্যে শীর্ষে ঢাকা
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সাথে চুক্তি করছে বাংলাদেশ
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9