আজ পালন করা হয় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি, কে দিয়েছিলেন এই নাম?

০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ AM , আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২১ AM
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো © সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও নিপীড়িতদের স্মরণে ১ আগস্ট ২০২৪ সারাদেশে পালিত হয় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি। শহীদদের স্মরণ, গণহত্যার প্রতিবাদ এবং ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নেওয়া এই কর্মসূচি দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তবে বহুল আলোচিত এই কর্মসূচির নামটি কে প্রস্তাব করেছিলেন— তা নিয়ে ছিল নানা কৌতূহল। পরে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে আসে সেই নামকরণের পেছনের গল্প।

২০২৪ সালের ৩১ জুলাই (বুধবার) আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশীদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণহত্যার আন্তর্জাতিক তদন্ত, জাতিসংঘের মাধ্যমে বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। ১ আগস্ট শিক্ষার্থী নির্যাতনের ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করা হবে। আন্দোলনে নিহত শহীদ ও আহতদের নিয়ে তাদের পরিবার এবং সহপাঠীরা স্মৃতিচারণ করবেন।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরতে চিত্রাঙ্কন, গ্রাফিতি, দেওয়াল লিখন, ফেস্টুন, ডিজিটাল পোর্ট্রেটসহ বিভিন্ন উপস্থাপনা তৈরি করার আহ্বান জানানো হয়।

ক্যাম্পাস ও এলাকাভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী-জনতার সমাবেশ করে গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা-মামলা, গুম-খুন এবং শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানোর কথাও বলা হয়। পাশাপাশি মৌন মিছিল, মশাল মিছিল, পথনাটক, মঞ্চনাটক ও প্রতিবাদী গানের আসরের মতো সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

শহীদদের স্মরণে যেকোনো লেখা, ছবি বা কনটেন্ট #JulyMassacre এবং #RememberingOurHeroes হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারের আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে কর্মসূচিতে সর্বাত্মক অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

সাংবাদিক তাওসিফুল ইসলাম

এর আগে ৩০ জুলাই রাত সোয়া ১১টার দিকে টেলিগ্রামে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ৩১ জুলাই দেশের আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে সেই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।

জানা যায়, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ ও রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ নামটি প্রস্তাব করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির তৎকালীন সদস্য, এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তাওসিফুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত।

তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এসএম ফরহাদ জানান, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ এবং ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’— দুটি আলোচিত কর্মসূচির নাম নির্ধারণে তাওসিফুল ইসলাম সহযোগিতা করেছিলেন। পরে সেই নামগুলো প্রেস রিলিজের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাদিক কায়েম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ৩০ জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তখন দেশজুড়ে গণহারে গ্রেপ্তার এবং আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছিল। সেই পরিস্থিতিতে গণহত্যার বিচার এবং ৯ দফা দাবি সামনে রেখে আদালতমুখী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাংবাদিক তাওসিফুল ইসলামের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে কর্মসূচির একটি নাম প্রস্তাব করতে বলেন। তাওসিফুল ইসলাম ‘মার্চ ফর জাস্টিস’সহ কয়েকটি নাম প্রস্তাব করেন। সেখান থেকে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ নামটি চূড়ান্ত করা হয়।

আবু সাদিক কায়েম আরও জানান, এরপর ১ আগস্টের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সিদ্ধান্ত হয়, জুলাইয়ের গণহত্যা এবং আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে একটি কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। তখন আবারও তাওসিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ নামটি প্রস্তাব করেন। পরে সেটিই চূড়ান্ত করে কর্মসূচি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ বন্ধ হওয়ার দিন আজ

তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির নামকরণেও তাওসিফুল ইসলামের ভূমিকা ছিল।

এ বিষয়ে তাওসিফুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ৩০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি আবু সাদিক কায়েম তাকে ফোন করে আদালতকেন্দ্রিক কর্মসূচির একটি খসড়া পাঠান এবং নাম প্রস্তাব করতে বলেন। তিনি তখন ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ নামটি প্রস্তাব করেন। পরে সেটিই গৃহীত হয়।

তিনি জানান, পরদিন তিনি দোয়েল চত্বরে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি কভার করেন। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেন। তবে পুলিশ মিছিলের পথ আটকে দেয় এবং শিক্ষার্থীদের হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে বুয়েটের শিক্ষার্থীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।

তাওসিফুল ইসলাম বলেন, একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সেক্রেটারি এসএম ফরহাদ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং অনলাইনে ছবি ও লেখা প্রকাশের জন্য একটি ভার্চুয়াল কর্মসূচির নাম প্রস্তাব করতে বলেন।

জবাবে তিনি চারটি নাম প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে ছিল ‘Remembering Our Heroes’। প্রথমে ছোট দুই শব্দের একটি নামের কথা বলা হলেও পরে তার প্রস্তাবিত ‘Remembering Our Heroes’ নামটিই ১ আগস্টের কর্মসূচির জন্য চূড়ান্ত করা হয়।

তাওসিফুল ইসলামের জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা, নামকরণ এবং আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সে সময় তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন মহলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আন্দোলন বিস্তৃত হয়েছিল।

তেরো বছরের মায়ের কোলে সাত মাসের শিশু, ভাইরাল ঘটনার নেপথ্যে …
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
আর্জেন্টিনা দলের তীব্র সমালোচনা করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হা…
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
উয়েফার সঙ্গে বিরোধের মুখে বিতর্কিত প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াল …
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কতদিন লাগবে?
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
‘পরিবর্তনের চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতেই’—ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্স…
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
চব্বিশের ৪ অগাস্ট এক থানায় ১৫ জন পুলিশ হত্যার পর কী হয়েছে?
  • ০১ আগস্ট ২০২৬