শবে কদরের নামাজের নিয়ম, পড়ার পদ্ধতি ও ফজিলত

১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৫২ PM
সালাত আদায়

সালাত আদায় © সংগৃহীত

শবে কদর ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত রাত। ‘শবে কদর’ শব্দটি ফারসি; এখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ সম্মান বা মর্যাদা। আরবিতে এই রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল কদর’। ‘লাইলাতুন’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা। এর আরেকটি অর্থ হলো ভাগ্য, পরিমাণ ও তকদির নির্ধারণ।

এই মহিমান্বিত রজনিতে মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সারা রাত নফল নামাজ আদায় করেন, কোরআন তেলাওয়াত করেন, জিকির-আযকার করেন এবং নিজেদের কৃত গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অনেকেই এ রাতে কবর জিয়ারতসহ বিভিন্ন ইবাদতে অংশ নেন।

কোরআন ও হাদিসে রমজানের কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে কিছু নিদর্শন দেওয়া হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে বলেছেন।

রমজান মাসের ৩০ দিনের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ ১০ দিন নাজাতের হিসেবে বিবেচিত। রহমত ও মাগফিরাতের দশক শেষ হওয়ার পর শুরু হয় নাজাতের দশক, যা রোজাদারদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়েই মুসলমানরা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করেন। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত লাভ করা যায় এবং এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

ইসলাম ধর্ম মতে, মহান আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “লাইলাতুল কদরে যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে কিয়াম করবে, তার পূর্বের সকল পাপ মোচন করা হবে।” সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৭৬০; সহিহ বোখারি: হাদিস নং ২০১৪।

এ কারণে এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়াকে বড় দুর্ভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান মাসের আগমনে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের নিকট এই মাস সমাগত হয়েছে, এতে এমন একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে প্রকৃতপক্ষে সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। একমাত্র দুর্ভাগাই এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়।” সুনানে ইবনে মাজা: হাদিস নং ১৬৪৪।

শবে কদরের নামাজের নিয়ত

নামাজের নিয়ত আরবিতে বলা আবশ্যক নয়। তবে অনেকে আরবিতে নিয়ত করে থাকেন। নিয়তটি হলো— নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদরি নফলে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শরীফাতি আল্লাহু আকবর।

অর্থ: আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম আল্লাহু আকবর।

শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম

লাইলাতুল কদরের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নামাজের পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি। এ রাতে দুই রাকাত করে যত মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে নফল নামাজ আদায় করা যায়, তা উত্তম। দুই রাকাত করে ইচ্ছামতো যত খুশি নামাজ পড়া যায়। এর পাশাপাশি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা, দোয়া করা, ইস্তেগফার পড়া এবং তওবা করা উত্তম।

কিছু মানুষের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সুরা পড়ার প্রচলন থাকলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তি নেই। তবে চাইলে বেশি বেশি সূরা কদর ও সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করা যেতে পারে।

এই রাতে যে দোয়া বেশি পড়বেন

রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাতেই লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রত্যেক বেজোড় রাতে বেশি বেশি ইবাদত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ রাতে হাদিসে বর্ণিত একটি বিশেষ দোয়া বেশি পড়তে বলা হয়েছে।

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি জানতে পারি কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তাহলে কোন দোয়া পড়ব?” উত্তরে তিনি বলেন, তুমি বলো—

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ العَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। —(তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩; মুসনাদে আহমাদ; ইবনে মাজাহ; মিশকাত)।

সূরা কদর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

ইন্না আনযালনাহু ফি লাইলাতিল কাদর। ওয়া মা আদরাকা মা লাইলাতুল কাদর। লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর। তানাযযালুল মালাইকাতু ওয়ার রূহু ফিহা বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর। সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলা‘ইল ফাজর।

অর্থ: শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। নিশ্চয়ই আমি এই কুরআন মহিমান্বিত কদরের রাতে নাজিল করেছি। আপনি কি জানেন, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে প্রত্যেক কল্যাণময় বিষয় নিয়ে ফেরেশতা ও রূহ (জিবরাঈল) তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে অবতীর্ণ হন। সে রাত শান্তিময়, যা ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

হাম রোগে শিশুর মৃত্যু, মহাখালী সংক্রামক হাসপাতালে ভাঙচুর
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
ইউএনওর সঙ্গে নারীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
এতিম শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৪০ হাজার টাকা ছবি তোলার পরই ফেরত ন…
  • ১৬ মার্চ ২০২৬
ঘুমিয়েও সারারাত ইবাদতের সাওয়াব রয়েছে যে আমলে
  • ১৬ মার্চ ২০২৬
শবে কদরের নামাজের নিয়ম, পড়ার পদ্ধতি ও ফজিলত
  • ১৬ মার্চ ২০২৬
মসজিদে শিশুকে চড়, প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে হামলা-…
  • ১৬ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence