ইসলামের নবী প্রথম কোন পশু কোরবানি করেছিলেন?

২৮ মে ২০২৬, ০৯:৩৮ AM
কোরবানির পশু

কোরবানির পশু © টিডিসি এআই সম্পাদিত

ইসলাম ধর্মমতে, সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে কোরবানির রীতি মানব সভ্যতার একেবারে শুরুতেই নবী আদম (আ.)-এর যুগে চালু হয়েছিল। তবে বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে যে পশু কোরবানির প্রচলন রয়েছে, তার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত নবী ইব্রাহীম (আ.)-এর ঘটনা। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, আল্লাহর নির্দেশে নবী ইব্রাহীম (আ.) তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করার জন্য মক্কার আরাফাত ময়দানে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে আল্লাহ তার আনুগত্যে সন্তুষ্ট হয়ে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানির ব্যবস্থা করেন। সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ মুসলিম বিশ্বে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়।

তবে ইসলামপূর্ব আরবেও পশু কোরবানির প্রচলন ছিল। সে সময় দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করা হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, ‘হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কায় অবস্থানকালে সেই কোরবানির রীতি অনুসরণ করেননি। এমনকি নবুয়ত লাভের পরও দীর্ঘ সময় তাকে কোরবানি করতে দেখা যায়নি।’

পরবর্তীতে ইসলাম প্রচারের একপর্যায়ে নবী মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানেই প্রথমবার পশু কোরবানি করেন। ইসলামি শরিয়তে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, দুম্বা ও উট—এই ছয় ধরনের পশু কোরবানি বৈধ করা হয়েছে। ইতিহাস ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামের নবী প্রথম কোরবানিতে দুম্বা বেছে নিয়েছিলেন।

৬১০ খ্রিস্টাব্দে নবুয়ত লাভের পর প্রায় ১২ বছর ধরে মক্কায় ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে নানা নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মুখোমুখি হন নবী মুহাম্মদ (সা.)। একপর্যায়ে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনাকে ‘হিজরত’ বলা হয় এবং সেখান থেকেই হিজরি সনের সূচনা।

নবীর সাহাবি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, মদিনায় গিয়ে নবী জানতে পারেন, স্থানীয়রা প্রতিবছর ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ নামে দুটি উৎসব পালন করে। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, একটি উৎসব শরতে এবং অন্যটি বসন্তকালে অনুষ্ঠিত হতো।

অধ্যাপক মিয়াজী বলেন, ‘তখন ওই দুই উৎসবের পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য দুটি বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব চালু করা হয়। একটি শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি জিলহজ মাসে ঈদুল আজহা।’

মুসলিম পণ্ডিতদের মতে, হিজরি দ্বিতীয় সনে প্রথমবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা বলেন, ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী করিম (সা.)-এর কাছে কোরবানির নির্দেশ আসে এবং তিনি প্রথমবার পশু কোরবানি করেন।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ড. মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, ইসলামের অনেক বিধান আগের নবীদের রীতির ধারাবাহিকতায় এসেছে। ‘প্রথমদিকে মুসলমানরা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে সিজদা করতেন, পরে কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় শুরু হয়। কোরবানির বিষয়টিও তেমনই নবী ইব্রাহীম (আ.)-এর আদর্শ অনুসরণে এসেছে।’

বিশুদ্ধ হাদিসে ইসলামের নবীর প্রথম কোরবানির বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। সহিহ বুখারির ৫৫৫৪ নম্বর হাদিসে আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) দুটি সাদা-কালো রঙের শিংওয়ালা দুম্বা নিজ হাতে কোরবানি করেছিলেন।’

মিশকাত শরিফেও এ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। ড. পাটোয়ারী বলেন, ‘আনাস (রা.) বলেছেন, তিনি দেখেছেন রাসূল (সা.) দুটি নাদুস-নুদুস শিংওয়ালা দুম্বা বেছে নেন এবং আল্লাহু আকবার বলে নিজ হাতে জবাই করেন।’

মাওলানা আবু হোরায়রা জানান, ‘দুটি দুম্বার একটি তিনি নিজের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানি করেছিলেন।’

আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

এই কোরবানি ঈদুল আজহার নামাজের পর করা হয়েছিল, যা এখনও অনুসরণ করা হয়। ড. পাটোয়ারী বলেন, ‘হাদিসে বলা আছে, ঈদের নামাজের আগে জবাই করলে তা কোরবানি হবে না, সাধারণ জবাই হিসেবে গণ্য হবে।;

মুসলিম পণ্ডিতদের মতে, হিজরি দ্বিতীয় সন থেকে শুরু করে নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রতি বছর নিয়মিত কোরবানি করেছেন। তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. পাটোয়ারী বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, হিজরতের পর রাসূল (সা.) ১০ বছর মদিনায় ছিলেন এবং প্রতি বছরই কোরবানি করেছেন।’

দুম্বার পাশাপাশি নবী (সা.) উট, গরু ও ভেড়াও কোরবানি দিয়েছেন বলে জানান ইসলামি গবেষকরা। মাওলানা আবু হোরায়রা বলেন, “তিনি সবসময় সুস্থ, মোটাতাজা, শিংওয়ালা ও সুন্দর পশু বেছে নিতেন। আর দুম্বা বা ভেড়ার ক্ষেত্রে খাসি পশু পছন্দ করতেন।”

গবেষকদের মতে, হজ ও ওমরাহ পালনের সময় নবী (সা.) এবং তার সাহাবিরা কোরবানির পশু সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। এসব পশুকে ‘হাদি’ বলা হতো।

অধ্যাপক মিয়াজী বলেন, “ষষ্ঠ হিজরিতে ওমরাহ করতে গিয়ে হুদাইবিয়ায় বাধাপ্রাপ্ত হলে নবী (সা.) সেখানেই অবস্থান করেন। পরে সন্ধির পর নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে উট কোরবানি করেন।”

তখন নবী (সা.) মোট ৬৩টি উট কোরবানি করেছিলেন বলে জানা যায়। এছাড়া কিছু পশুর গায়ে দাগ দিয়ে মক্কার দিকে ছেড়ে দেওয়া হতো, যাতে বোঝা যায় সেগুলো কোরবানির পশু।

পরবর্তীতে দশম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পর নবী মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজ পালন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ড. মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, ‘সেই বিদায় হজে নবী করিম (সা.) ১০০টি উট কোরবানি করেছিলেন। এর মধ্যে ৬৩টি তিনি নিজ হাতে জবাই করেন এবং বাকিগুলো হযরত আলী (রা.) জবাই করেন।’

ইরানে নতুন করে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র
  • ২৮ মে ২০২৬
কোরবানির মাংসের স্বাদ ও পুষ্টি অক্ষুণ্ন রাখতে যেভাবে ফ্রিজি…
  • ২৮ মে ২০২৬
মেসিসহ পুরো আর্জেন্টিনা দলকে চমকে দিলেন স্কালোনি
  • ২৮ মে ২০২৬
ইসলামের নবী প্রথম কোন পশু কোরবানি করেছিলেন?
  • ২৮ মে ২০২৬
প্রথম অনুশীলনেই অনুপস্থিত, হাসপাতালে নেইমার
  • ২৮ মে ২০২৬
ইসলামের নবী প্রথম কোন পশু কোরবানি করেছিলেন?
  • ২৮ মে ২০২৬