ঈদের দিন সেমাই খাওয়া কি সুন্নত

২৮ মে ২০২৬, ০৭:২৪ AM
ঈদের দিন সেমাই খাওয়ার বিধান

ঈদের দিন সেমাই খাওয়ার বিধান © সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরের দিন নামাজে যাওয়ার আগে মিষ্টিজাতীয় কিছু খাওয়া সুন্নত। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহর রাসূল (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটি খেজুর না খেয়ে (নামাজের জন্য) বের হতেন না এবং তিনি তা বেজোড় সংখ্যায় খেতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৯৫৩)

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন, এই হাদিস থেকে বোঝা যায় ঈদের নামাজের আগে মিষ্টিমুখ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আরবে খেজুর ছিল সহজলভ্য ও জনপ্রিয় খাবার। তাই তিনি খেজুর দিয়ে এ সুন্নাত পালন করতেন।

তবে সেমাই খাওয়া নির্দিষ্টভাবে সুন্নত নয়। কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে আরবে সেমাইয়ের প্রচলন ছিল না। ফলে হাদিসে সরাসরি সেমাইয়ের উল্লেখও পাওয়া যায় না। আলেমরা বলেন, সেমাই একটি বৈধ ও মুবাহ খাবার। ঈদের সকালে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার সুন্নাত পালনের নিয়তে কেউ সেমাই খেলে সে সওয়াব পাবে।

অর্থাৎ, সেমাই নিজে সুন্নত না হলেও মিষ্টিমুখ করার যে সুন্নাত রয়েছে, তা সেমাইয়ের মাধ্যমেও আদায় করা সম্ভব। তাই সেমাইকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা বা ইবাদতের অংশ মনে না করে সংস্কৃতি ও রুচিসম্মত খাবার হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।

উপমহাদেশের সংস্কৃতিতে সেমাইয়ের গুরুত্ব

উপমহাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ঈদের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হিসেবে সেমাই পরিচিত। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের আপ্যায়নে এই খাবার বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ইসলাম হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণকে বৈধ করেছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে শোভা ও পবিত্র রিযিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আল-আরাফ: ৩২)

আলেমদের মতে, হালাল ও পবিত্র খাবার হিসেবে ঈদের দিনে সেমাই খাওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ। নিয়ত ভালো হলে এটি বরকতময়ও হতে পারে। তবে কেউ সেমাইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে ঈদের নামাজে গেলেও তার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।

ঈদুল আজহায় বিধান ভিন্ন

ঈদুল ফিতরের বিপরীতে ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে বিধান কিছুটা আলাদা। এদিন নামাজের আগে কিছু না খেয়ে থাকা এবং কোরবানির গোশত দিয়ে দিনের প্রথম আহার করা সুন্নত।

হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না এবং ঈদুল আজহার দিন নামাজ আদায় না করা পর্যন্ত কিছু খেতেন না। নামাজ থেকে ফিরে তিনি নিজের কোরবানির গোশত থেকে আহার করতেন।’ (জামে তিরমিজি: ৫৪২; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫৬)

আলেমরা বলেন, কোরবানির গোশত দিয়ে প্রথম আহার করার মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ ও ইবাদতের প্রতি ভালোবাসার প্রতীকী প্রকাশ রয়েছে। এ আমল মুসলমানদের আত্মত্যাগ, সংযম ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা দেয়।

কোরবানি না থাকলেও নামাজের আগে না খাওয়ার উৎসাহ

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় বা যারা কোরবানি দিচ্ছেন না, তাদের ক্ষেত্রেও ঈদুল আজহার দিন নামাজের আগে কিছু না খেয়ে থাকা মোস্তাহাব। তবে নামাজ শেষে ফিরে যেকোনো হালাল খাবার খেতে কোনো বাধা নেই। (ফতোয়ায়ে শামি: ২/১৭৬)

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, ঈদের দিনের খাবার ও আনন্দ যেন ইবাদতের সৌন্দর্য নষ্ট না করে। বরং প্রতিটি কাজে সুন্নাহ অনুসরণ ও আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের মানসিকতা থাকা উচিত।

অপচয় ও অতিভোজন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ

ইসলামে ঈদের দিনে ভালো খাবার খাওয়া বৈধ এবং আনন্দের অংশ হলেও অপচয় ও অতিভোজনকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না।’ (সুরা আরাফ: ৩১)

তাই ঈদের আনন্দ উদযাপনের সময় অহংকার, অপচয় বা গুনাহের কাজে জড়িয়ে না পড়তে সতর্ক থাকার তাগিদ দিয়েছেন আলেমরা। তাদের মতে, ইসলাম ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন ও সংযমের শিক্ষা দেয়।

মেহমানদারি ও আনন্দ ভাগাভাগির গুরুত্ব

ঈদের দিনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং গরিব-মিসকিনদের খাওয়ানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করে নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত।

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল নিজের আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসহায় মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্যেই ঈদের তাৎপর্য ফুটে ওঠে।

ঈদের নামাজে রাকাত না পেলে করণীয়
  • ২৮ মে ২০২৬
ঈদের নামাজের আগে কী কোরবানি করা যায়, শরিয়তের বিধান কী
  • ২৮ মে ২০২৬
জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত
  • ২৮ মে ২০২৬
আজ দুপুরের মধ্যে যে ৬ জেলায় ৬০ কিমি বেগে কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস
  • ২৮ মে ২০২৬
ঈদের দিন সেমাই খাওয়া কি সুন্নত
  • ২৮ মে ২০২৬
ঈদের কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাবা-মেয়ের সামনেই প্রাণ গ…
  • ২৮ মে ২০২৬