জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ ৩ আমল পালনের আহ্বান শায়খ আহমাদুল্লাহর

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৪ AM
ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ

ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ © সংগৃহীত

জুমার দিন মুমিন মুসলমানের জন্য সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ তিনটি বিশেষ আমল কখনোই না ছাড়ার জন্য মুসলিম উম্মাহর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই তিনটি আমল আঁকড়ে ধরার সংকল্প করা উচিত।

প্রথম আমল হিসেবে তিনি জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠের কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন—জুমার রাত ও জুমার দিনে তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে। সাধারণত কোনো আমল ‘পরিমাণে বাড়ানোর’ কথা নবীজি খুব কমই বলেছেন। কোরআনে আল্লাহ তাআলা জিকির বেশি করার কথা বলেছেন, আর হাদিসে নবীজি বিশেষভাবে দরুদের পরিমাণ বাড়াতে বলেছেন। অর্থাৎ আমলের গুণগত মান ঠিক রাখার পাশাপাশি পরিমাণও বাড়াতে হবে, বিশেষ করে জুমার রাত ও দিনে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, জুমার রাত বলতে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে এবং জুমার দিন বলতে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাকে বোঝায়। এ সময় বেশি বেশি দরুদ পড়তে হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর যেখান থেকেই দরুদ পড়া হোক না কেন, আল্লাহ তাআলার নিযুক্ত ফেরেশতারা তা নবীজির কাছে পৌঁছে দেন।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উত্তম দরুদ হলো দরুদে ইব্রাহিম—যা নামাজে পড়া হয়: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আালি মুহাম্মাদ…’। এটি নবীজি সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং এর চেয়ে উত্তম দরুদ নেই। দীর্ঘ দরুদ পড়তে না পারলে সংক্ষিপ্তভাবে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ অথবা ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ’ পড়লেও দরুদ আদায় হয়ে যাবে।

দরুদের ফজিলত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দরুদ এমন এক আমল যার জন্য অজু থাকা শর্ত নয়; এমনকি ফরজ গোসল অবস্থাতেও দরুদ পড়া যায়। আল্লাহ তাআলা সহজ করে দিয়েছেন যাতে বেশি বেশি পড়া যায়। একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ বান্দার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন। দরুদ পেরেশানি দূর করার মহৌষধ, জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম এবং আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম পথ।

দ্বিতীয় আমল হিসেবে তিনি জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাদিসে এসেছে, যত নামাজ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা। ফজরের নামাজ প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ; তবে জুমার ফজর বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।

তিনি বলেন, ফজরের নামাজে উপস্থিত হওয়া ঈমানদারের আলামত। যারা অন্ধকার ভেদ করে ফজরে মসজিদে যায়, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদের জন্য বিশেষ নূরের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাই তিনি আহ্বান জানান, ফজরের নামাজ কোনো অবস্থাতেই যেন না ছাড়া হয়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে দেরি করে জেগে থাকা থেকে বিরত থাকতে বলেন, যাতে শুক্রবার ফজরে উপস্থিত হওয়া যায়।

তৃতীয় আমল হিসেবে তিনি জুমার নামাজে আগে আগে উপস্থিত হওয়ার কথা বলেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায়, আগে আগে উপস্থিত হয়, ইমামের কাছে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কথা বলে না, সে মসজিদে যাওয়ার পথে যত কদম ফেলবে, প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর নফল রোজা ও এক বছর তাহাজ্জুদের সওয়াব পাবে।

শেষে তিনি মুসল্লিদের আবারও অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যতদিন নিঃশ্বাস আছে, এই তিনটি আমল বেশি বেশি দরুদ পড়া, জুমার ফজর জামাতে আদায় করা এবং জুমায় আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া কখনোই যেন না ছাড়া হয়।

৭ মুসল্লি নিয়ে ঈদের নামাজ আদায়, এলাকায় চাঞ্চল্য
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
লঞ্চে উঠতে গিয়ে মৃত্যু, সড়কেও ঝরছে প্রাণ—নজরদারি বাড়ানোর দা…
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
স্বামীর চিকিৎসায় সন্তান বিক্রি করতে চান স্ত্রী
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
স্বাভাবিক মৃত্যু চাই: ডা. মাহমুদা মিতু
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ঈদের দিন শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবে হাবিপ্…
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটিতেও বিএমইউ বহির্বিভাগে একদিনে সেবা নিলেন ৬৮৫ রোগী,…
  • ১৯ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence