প্রতীকী ছবি © টিডিসি এআই জেনারেটেড
অনিশ্চয়তা বা আতঙ্ক থেকে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ভয়ই হলো অ্যাঙ্কজাইটি বা দুশ্চিন্তা। এটি মানুষের মন ও মস্তিষ্কে তীব্র চাপ তৈরি করে। দৈনন্দিন জীবনের নানা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে আমরা প্রায়ই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই নিয়মিত দুশ্চিন্তার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, পেশির বেদনা ও আতঙ্ক ব্যাধিসহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
বর্তমানে বিশ্বজুড়েই বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশন এক ভয়াবহ ব্যাধি হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছেন। এই ব্যাধি মানুষকে অক্ষমতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশেও দিন দিন বিষণ্নতায় ভোগা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও ডিপ্রেশন থেকে বাঁচার জন্য কিছু কার্যকর আমলের কথা জানিয়েছেন প্রখ্যাত আলেম ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তিনি বলেন, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তির প্রধান উপায় হলো ঈমান ও তাকওয়া মজবুত করা। যার ঈমান যত দুর্বল, সে তত দ্রুত মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে শক্তিশালী ঈমানের অধিকারীকে দুশ্চিন্তা কম স্পর্শ করে। সমস্যা যত বড়ই হোক, ‘আল্লাহ তাআলা আমার বিষয়টি দেখবেন’ এই বিশ্বাস মনে ধরে রাখতে হবে।
আল্লাহর ওপর অটল ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এই সমস্যার একটি সমাধান হবেই ইনশাআল্লাহ। আর কিছু না হলেও ঈমানদারের সামনে আখেরাত রয়েছে। তাই ডিপ্রেশনে ভেঙে পড়া কোনো ঈমানদারের সাজে না। ঈমান মজবুত করলেই পেরেশানি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এ ছাড়া পেরেশানি দূর করতে তিনটি পরীক্ষিত আমলের কথা জানান তিনি। সেগুলো হলো দুরুদ পড়া, ইস্তিগফার করা এবং দোয়ায় ইউনুস পাঠ করা। যেকোনো ডিপ্রেশন থেকে বাঁচার ক্ষেত্রে এগুলো মহৌষধের মতো কাজ করে।
দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে বড় উপায় হলো সরাসরি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
হাদিসে এসেছে, আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে প্রবেশ করে আবু উমামাহ নামক এক আনসারি সাহাবিকে দেখতে পান। নামাজের ওয়াক্ত ছাড়া তাকে বসে থাকতে দেখে রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘হে আবু উমামাহ, কী ব্যাপার! নামাজের সময় ছাড়া তোমাকে মসজিদে বসে থাকতে দেখছি?’
আবু উমামাহ (রা.) উত্তরে বলেন, ‘সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝার কারণে, হে আল্লাহর রাসুল।’ তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না, যা বললে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন?’
সাহাবি সম্মতি জানালে রাসুল (সা.) তাকে সকাল ও সন্ধ্যায় একটি বিশেষ দোয়া পড়ার পরামর্শ দেন।
আবু উমামাহ (রা.) বলেন, ‘আমি সেই অনুযায়ী আমল করলাম। ফলে মহান আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থাও করে দিলেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫৫)
দোয়াটি হলো:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ العَجزِ وَالكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الجُبنِ وَالبُخلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ غَلَبَةِ الدَّينِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজুবিকা মিন গলাবাতিদ দাইনি ওয়া কহরির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পণ্য থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল থেকে।
দুশ্চিন্তা দূর করার সর্বশেষ আমল হিসেবে শায়খ আহমাদুল্লাহ ভোররাতে তাহাজ্জুদের সময় চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে দোয়া করার পরামর্শ দেন। এতে মহান আল্লাহ অসাধ্যকেও সাধন করে দেবেন ইনশাআল্লাহ।