রমজান মাসে ইবাদতের মৌসুম © সংগৃহীত
মুসলিম উম্মাহর কাছে রমজান মাস কেবল একটি ইবাদতের সময় নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, তওবা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগের মাস। পবিত্র এই মাসের মর্যাদা ও তাৎপর্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ আল-কুরআন-এ ঘোষণা করেছেন, ‘রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে উপস্থিত থাকবে, সে যেন এ মাসটি রোজা থাকে। আর কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা সফরে থাকলে সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করেন; কঠিন না। তিনি চান তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি যে তোমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন সে জন্য তাকবির উচ্চারণ কর, যাতে তোমরা শোকর কর।’ (সূরা বাকারা ২: ১৮৫)।
এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট হয়, রমজান মানবজাতির জন্য হিদায়াতের মাস। এ মাসে নাজিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রমজানে সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়, পাপকে অধিক জঘন্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ রাখা হয়। এ মাসেই আল্লাহ তাআলা পাপী-তাপীদের তওবা কবুল করেন এবং রহমত ও বরকতের দ্বার উন্মুক্ত করেন।
ইসলামি আলেমদের মতে, রমজানের প্রকৃত প্রস্তুতি শুরু হয় আত্মসমালোচনা ও আন্তরিক তওবার মাধ্যমে। ঈমানের দাবিকে বাস্তব জীবনে বাস্তবায়ন, ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় এবং হারাম ও সন্দেহজনক কাজ বর্জন—এসবই রমজানকে ফলপ্রসূ করার পূর্বশর্ত।
জামাতে নামাজ আদায়, বেশি বেশি আল্লাহর যিকির, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, প্রতিবেশীর হক আদায়, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ—এসব আমলের চর্চা রমজানে বিশেষ গুরুত্ব পায়। ছোট বা বড় সব ধরনের গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাই এ মাসের মূল চেতনা। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সূরা যুমার: ৫৩)।
চার কারণে রমজান বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন
ইসলামি শিক্ষায় রমজান মাসকে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বলা হয়েছে প্রধানত চারটি কারণে।
প্রথমত, এ মাসেই রয়েছে লাইলাতুল কদর—যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাত ইবাদত ও দোয়ার জন্য অতুলনীয় মর্যাদার অধিকারী।
দ্বিতীয়ত, এ মাসেই সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব আল-কুরআন নাজিল হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।
তৃতীয়ত, রমজানে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত রাখা হয় এবং জাহান্নামের দরজা রুদ্ধ থাকে—যা বান্দাদের জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের প্রতীক।
চতুর্থত, রোজা, তারাবি, কিয়ামুল লাইল, ইতিকাফ, দান-সদকা ও কুরআন তেলাওয়াতের মতো বিশেষ ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ এ মাসেই লাভ করা যায়।
ইসলামি বক্তারা বলেন, রমজান মূলত অর্জন ও লাভের মাস। যেমন একজন ব্যবসায়ী লাভের মৌসুমকে কাজে লাগায়, তেমনি একজন মুমিন এ মাসে ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, মানুষকে ক্ষমা করা এবং মানবকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।
রমজান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায়। তাই তওবা, ইস্তিগফার ও নেক আমলের মাধ্যমে এই মাসকে পরিপূর্ণ করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
[ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব]