স্যালাইন, ইনজেকশন নিলে কি রোজা নষ্ট হবে?

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ AM
রোজা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন, ভিটামিন ইনজেকশন কিংবা শিরায় ওষুধ নিতে হতে পারে অনেকের

রোজা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন, ভিটামিন ইনজেকশন কিংবা শিরায় ওষুধ নিতে হতে পারে অনেকের © টিডিসি সম্পাদিত

আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এ সাধনায় কখনও কখনও অসুস্থতা বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা, ডিহাইড্রেশন বা অন্যান্য জটিলতায় চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন, ভিটামিন ইনজেকশন কিংবা শিরায় ওষুধ নিতে হতে পারে অনেকের। 

এক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এ ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করলে কি রোজা ভেঙে যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এর সঠিক বিধান কী? 

রোজা ভঙ্গের মূলনীতি
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, সাধারণত মুখ বা নাক দিয়ে খাদ্য, পানীয় বা পুষ্টিদায়ক কোনো বস্তু পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে নতুন নতুন পদ্ধতি চালু হওয়ায় এ বিষয়ে ফিকহবিদদের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমদের মতে, রোজা ভঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো ইচ্ছাকৃত পানাহার এবং যা কিছু পানাহারের বিকল্প। অর্থাৎ যে কোনো খাদ্য বা পানীয় পেটে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায় তা মুখ দিয়ে হোক বা নাকের নল (টিউব) মাধ্যমে হোক। একইভাবে খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত পুষ্টিদায়ক ইনজেকশনও রোজা ভঙ্গকারী। (ফাতওয়াল লাজনা আদ-দায়িমা, ৯/১৭৮)

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর মধ্যে খাওয়া ও পান করা অন্তর্ভুক্ত খাদ্য বা পানীয় যে ধরনেরই হোক না কেন। তাঁর মতে, যে ইনজেকশন শরীরে পুষ্টি যোগায় বা খাবারের মাধ্যমে যে শক্তি পাওয়া যায় তার বিকল্প হিসেবে কাজ করে, সেগুলোও খাওয়া-পান করার অন্তর্ভুক্ত; তাই এ ধরনের ইনজেকশন রোজা ভঙ্গ করবে। (মাজমুউ ফাতাওয়া ও রাসায়িলিল উছাইমীন, ১৯/২১)

তিনি আরও বলেন, আলেমগণ রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন কেবল সেসব বিষয়কে, যা পানাহারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে যেমন পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন। তবে যে ইনজেকশন শুধু শরীর চাঙ্গা করা বা রোগ নিরাময়ের জন্য দেওয়া হয় এবং খাদ্য–পানীয়ের বিকল্প নয়, তা রোজা ভঙ্গ করবে না। ইনজেকশন রগে, পেশীতে বা শরীরের অন্য যেকোনো স্থানে দেওয়া হোক যদি তা পানাহারের স্থলাভিষিক্ত না হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না। (মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিল উছাইমীন, ১৯/১৯৯)।

আরও পড়ুন: আংশিক মেঘলা থাকবে ঢাকার আকাশ

কিছু কিছু রোগীকে রগ দিয়ে যে স্যালাইন পুশ করা হয় এটি রোজা ভঙ্গ করবে। কেননা এটি খাদ্য দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। (কারণ এর মধ্যে লবণ ও তরল রয়েছে), যা পেটে প্রবেশ করবে এবং এর দ্বারা শরীর উপকৃত হবে।

ভিটামিন ইনজেকশন ও রগে পুশ করা ইনজেকশন
যদি এ সব ইনজেকশন শরীরকে চাঙ্গা করার জন্য, ব্যথ্যা দূর করার জন্য, কিংবা লাঘব করার জন্য, জ্বর কমানোর জন্য গ্রহণ করা হয় এবং এটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে এসব ইনজেকশনের কারণে রোজা ভঙ্গ হবে না। পক্ষান্তরে, যদি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হয় তাহলে এটি রোজা নষ্ট করবে। কারণ এটি খাবার ও পানীয়ের স্থলাভিষিক্ত; তাই এটাকে খাবার ও পানীয়ের হুকুম দেয়া হবে।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির মতে, রমজানে রোযাদার ব্যক্তি চিকিৎসার প্রয়োজনে দিনের বেলায় পেশীতে (আইএম) ইনজেকশন নিতে পারেন; এতে রোজা নষ্ট হয় না। তবে খাদ্য বা পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন গ্রহণ করা বৈধ নয়, কারণ তা খাবার-দাবারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং রোজা ভঙ্গের শামিল। সম্ভব হলে পেশী বা রগে ইনজেকশন রাতের বেলায় নেওয়াই উত্তম। (ফতোয়াসমগ্র, ১০/২৫২)

সাপোজিটরিতে রোযা ভাঙে কী?
সাপোজিটরিতে রোজা ভাঙে না। কারণ এটি চিকিৎসার জন্য গ্রহণ করা হয়। এটি খাবার ও পানীয় এর মধ্যে পড়ে না। শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, রোযাদার ব্যক্তি অসুস্থ হলে গুহ্যদ্বার দিয়ে প্রবেশকৃত সাপোজিটরি ব্যবহারে কোন গুনাহ্‌ নেই। কেননা এটি পানাহার নয় এবং পানাহারের স্থলাভিষিক্তও নয়। শরিয়ত প্রণেতা আমাদের ওপর শুধু পানাহার করা হারাম করেছেন। অতএব, যা কিছু পানাহারের স্থলাভিষিক্ত সেটাকে পানাহারের হুকুম দেয়া হবে। আর যা কিছু এরকম নয় সেগুলো শব্দগত কিংবা অর্থগতভাবে পানাহারের অধীনে পড়বে না। (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব)

অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের সাফ জয়, জামায়াত আমির বললেন— ‘ওয়েলডান’
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’— স্লোগানে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদ…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
সাফজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে প্রধানমন্ত্রী তারেক …
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
রাজনীতির ইচ্ছা থাকলে শিক্ষকতা থেকে ইস্তফা দিয়ে আসুন: ডেপুটি…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নয়, মেয়েকে নিয়ে ইংরেজি সায়েন্স ফিকশন সিনে…
  • ০৪ এপ্রিল ২০২৬