ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ © সংগৃহীত
রমজানে রোজা অবস্থায় দোয়া কবুলের দুটি বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ করে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ভোর রাতের সময় এবং ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত—এই দুই সময় দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা থাকে। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোয়া কবুলের সবচেয়ে মোক্ষম সময় হলো ভোর রাত।
সাম্প্রতিক সময় তিনি এক ধর্মীয় আলোচনায় এমন তথ্য জানিয়েছেন।
আলোচনায় শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, সারা বছর ভোর রাতের এই মূল্যবান সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে কাটালেও রমজানে সবাই সাহরির জন্য জেগে ওঠেন। তাই সাহরি খেয়ে সরাসরি ফজরের নামাজে চলে না গিয়ে অন্তত পাঁচ থেকে দশ মিনিট আগে সাহরি শেষ করে দুই বা চার রাকাত নামাজ পড়ে দোয়া করা উচিত। তিনি সতর্ক করেন, সাহরি শেষ মুহূর্তে খাওয়া সুন্নত হলেও মুয়াজ্জিনের আজানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত খাওয়া সুন্নতের উদ্দেশ্য নয়; বরং কয়েক মিনিট আগে শেষ করে নিরিবিলি পরিবেশে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করা উত্তম।
তিনি আরও বলেন, ইফতারের আগের সময়টিও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত। অথচ এই সময় অধিকাংশ মানুষ খাবার প্রস্তুতি ও ব্যস্ততায় কাটান। তার মতে, ইফতারের অন্তত ১০ মিনিট আগে সব কাজ গুটিয়ে পরিবারসহ বসে চোখের পানি ফেলে দোয়া করা উচিত। তিনি বলেন, রমজানকে শুধু রোজা রাখা, তারাবি পড়া, ইফতার ও সাহরিতে সীমাবদ্ধ না রেখে গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: সর্বোচ্চ সওয়াব পেতে রমজানে করুন এই পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ আমল
গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ও গুনাহ মাফ চাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে আল্লাহ অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন। তাই বিনম্র অন্তর ও চোখের পানির দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া কোরআনের সঙ্গে সময় কাটানো, বিশুদ্ধ তেলাওয়াত শেখা, অর্থ বুঝে পড়া এবং পরিবারে ‘কোরআন টাইম’ চালুর পরামর্শ দেন তিনি। উচ্চস্বরে অন্যকে বিরক্ত না করে কোরআন তেলাওয়াতের পরিবেশ তৈরি করলে ঘরে বরকত নাজিল হয় বলেও উল্লেখ করেন।
রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) জীবনে কখনও ইতিকাফ ছাড়েননি। ইতিকাফকে তিনি এমন এক আমল হিসেবে উল্লেখ করেন, যা বান্দার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, মক্কায় ইতিকাফে অবস্থানকালে একটি মসজিদের জমি কেনার জন্য প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অর্থ একাউন্টে জমা হয়, যা তার কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল।
তিনি বলেন, আরাফাতের দোয়া, ইতিকাফের স্বাদ এবং সেজদার দোয়া এই তিনটির তুলনা দুনিয়ার কোনো কিছুর সঙ্গে হয় না। জীবনের বহু রমজান অবহেলায় কেটে গেলেও অন্তত একটি রমজান যেন জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনে, সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা ও আন্তরিক দোয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, ভোর রাতে সাহরির সময়ের এক মিনিটের দোয়া অন্য সময়ের দীর্ঘ সময়ের ইবাদতের চেয়েও মূল্যবান হতে পারে। তাই সাহরি আগে শেষ করে নিরিবিলি জায়গায় দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ ও সেজদায় মন খুলে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।