বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্সে বিশেষজ্ঞরা

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ‌আই ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে

২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ PM
বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স

বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স © সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ‘ফ্রম আইসিটি অ্যাক্ট টু সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স: ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, ডাটা কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।

ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা) আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬-এর অংশ হিসেবে এই প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) সহকারী অধ্যাপক ও মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ইমরান ফিরদাউস।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আইইউবির মেডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মহিউল ইসলাম, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান, আইইউবির মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনের সিনিয়র লেকচারার দিলশাদ হোসেন দোদুল এবং বিডিজবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ফাহিম মাশরুর।

আলোচনায় বাংলাদেশের ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য সুরক্ষা, ডিজিটাল অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, তথ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল সংস্কৃতি গড়ে তোলা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকর নীতিমালা, সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ড. মো. মহিউল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে ‘ডিজিটাল বিহেভিয়ার’ নিয়ে একটি জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি এ লক্ষ্যে বিএনসিসি, স্কাউটসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে শক্তিশালী মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি সাইবার নিরাপত্তাকে ব্যবসায়িক অবকাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল সুস্থতা বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অংশ হওয়া উচিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এআই-সংক্রান্ত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণেরও আহ্বান জানান।

দিলশাদ হোসেন দোদুল বলেন, ডিজিটাল নীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার আওতায় সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি রিকশাচালক, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, গৃহকর্মী এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আইনি ও নীতিগত অগ্রগতি সত্ত্বেও নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

ফাহিম মাশরুর বলেন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক আইন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা উচিত। তিনি ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থায় আরও বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নীতিমালার পাশাপাশি কার্যকর তথ্য যাচাই ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খেলাফতের এমপিকে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বললেন বিএনপি কর্মী, ভিডি…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
বাস চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
যে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার হলো
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক হাব হিসেবে গড়ে তু…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, আ…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
ছাত্রদের ওপর হামলা, ভিডিও করায় সাংবাদিককে পেটাল অটোরিকশা চা…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬