প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান © টিডিসি ছবি
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বেসরকারি চ্যানেলের সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বাতিল করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারকে প্রশ্ন করার কারণে কার্ড বাতিল করা হয়েছে—চ্যানেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু প্রশ্ন করার কারণে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি মনে করেন না।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, একটি চ্যানেলের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ ও রিপোর্টাররা জানেন না কেন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করার কারণে এটি করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন—এ বিষয়ে তার মতামত কী?
জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, 'উনি কাকে প্রশ্ন করেছেন, আমি জানি না। আপনাদের সবারও তাহলে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করে দেওয়া উচিত। আপনারা প্রতিদিন আমাকে যেসব প্রশ্ন করেন, আমি তো ভয়েই থাকি, জানি না টিউসডেতে কী হবে!'
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী যিনি একজন সাংবাদিক ছিলেন। তাকে প্রশ্ন করার জন্য সরকার কোন পদক্ষেপ নেবে তা আমি একেবারেই মনে করিনা।
তবে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের অভিযোগটি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, 'তবে নেত্র নিউজের নিউজটা আমারও চোখে পড়েছে। আমি অবশ্যই এটা খোঁজ করব, কী হয়েছিল, কেন হয়েছিল।'
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘শুধু প্রশ্ন করার কারণে এই সরকার কোনো স্টেপ নেবে, সেটা আমি মনে করি না। আমি আগে একদিন একটা ডেটা দিয়েছিলাম ছয় মাসের। ৪৬৪টি মেজর অপতথ্যের মধ্যে ১৫৭টি ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু প্রশ্ন না, আপনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিসইনফরমেশন ছড়াচ্ছেন, এরকম বিষয়েও সরকারের টলারেন্স আছে। তবে নিউজটা আমার চোখে পড়েছে। আমরা এটা নিশ্চয়ই কনসার্ন হিসেবে নেব এবং আমি খতিয়ে দেখব। আমি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখব।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেত্র নিউজের সাংবাদিক তাসনিম খলিল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চ্যানেল ওয়ানের একজন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
তাসনিম খলিল তার পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চ্যানেল ওয়ানের সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই (লিংক কমেন্টে)। শেখ হাসিনার আমলে যেমন ওই কার্যালয়ে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টারকে ঢুকতে দেওয়া হতো না। তারেক রহমানকেতো আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষেই কথা বলতে শুনি আসছি। তিনি কেন হাসিনাকেই অনুকরণ করছেন?’