জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি নির্বাচন © টিডিসি সম্পাদিত
আগামী ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপে দেশের অন্তত ৮০টি উপজেলায় ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই দিনে জুনিয়র বৃত্তির গণিত পরীক্ষা থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্ভাব্য একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। আমরা এ নিয়ে কথা বলবো। ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তির গণিত পরীক্ষা রয়েছে। ওই দিনটি পরিবর্তন করে অন্য কোনো দিন ভোটগ্রহণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা করে দেখা হবে।
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর বাংলা, ১০ ডিসেম্বর ইংরেজি, ১৩ ডিসেম্বর গণিত এবং ১৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশের প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৩ ডিসেম্বর অন্তত ৮০টি উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে একই দিনে পরীক্ষা ও ভোট আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতার আশঙ্কা।
শিক্ষক-অভিভাবকরা জানান, বিভিন্ন উপজেলায় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হবে, সেগুলোর অনেকগুলোই ভোটকেন্দ্র হিসেবেও নির্ধারিত। ফলে একই দিনে দুই আয়োজন হলে পরীক্ষা পরিচালনা, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বরিশালের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দুটি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোই ভোটকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। বৃত্তি পরীক্ষা একটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ভোট হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। তাই ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা দরকার।’
এর আগে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, টেস্ট পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষা, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা এবং ঈদের সময় বিবেচনায় নিয়ে সাত ধাপে নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে শিক্ষক-অভিভাবকদের অভিযোগ, সব ধরনের পরীক্ষার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হলেও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সঙ্গে নির্বাচনের তারিখের সংঘাতের বিষয়টি হয়তো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তারা বিষয়টি দ্রুত সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।