শিক্ষার্থী মনিরের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপদ আবাসনের দাবিতে মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৩ PM
মাভাবিপ্রবির একাডেমিক ভবনের সামনে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা

মাভাবিপ্রবির একাডেমিক ভবনের সামনে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা © টিডিসি

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মনিরের সহপাঠী এবং রংপুর ডিভিশনাল অ্যাসোসিয়েশনের (আরডিএ) উদ্যোগে একাডেমিক ভবন-৩-এর সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
প্রথমত, বিল্ডিং কোড অমান্য করা এবং ভাড়াটিয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মেস মালিক ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নিহত মনিরুজ্জামান মনিরের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

দ্বিতীয়ত, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক (২৪/৭) কার্যকর ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালুর দাবি করা হয়। এছাড়া জরুরি সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তৃতীয়ত, ২৩ জুলাইয়ের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের শনাক্ত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

চতুর্থত, ‘খাজা মেসে’ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল অথবা বিকল্প নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি তোলা হয়।

পঞ্চমত, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সব মেসের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং বসবাসের উপযোগিতা যাচাইয়ে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করা হয়। পাশাপাশি যেসব মেস নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, সেখানে শিক্ষার্থীদের বসবাস নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ষষ্ঠত, ক্যাম্পাস-সংলগ্ন হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোর খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি, মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও দাবিগুলো শোনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শনিবারই ‘খাজা মেস’ পরিদর্শনের উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ‘খাজা মেসে’ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনির তৃতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে যান। পরে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মনিরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায়।

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
ট্রানজেকশন মনিটরিং অফিসার নিয়োগ দেবে এনআরবিসি ব্যাংক, আবেদন…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
ঝিনাইদহে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কাল
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
ফ্যাসিবাদ-চাঁদাবাজ দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে: জা…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
বরগুনায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত বাসভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ২৫ জুলাই ২০২৬