দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় চার যুগ। দফায় দফায় হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা। কত নাম এসেছে, কত নাম বাদ গেছে। কিন্তু যেসব বুদ্ধিজীবী জীবন দিয়েছেন, তাঁদের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ওঠেনি। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষককে হত্যা করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। তাদের অবদান নানাভাবে বইয়ে, পত্রিকায়, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে স্বীকার করা হলেও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই শহীদ বুদ্ধিজীবিদের নাম। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বুদ্ধিজীবি পরিবারের অনেক সদস্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শহীদ শিক্ষক বুদ্ধিজীবী হলেন অধ্যাপক গোবিন্দচন্দ্র দেব, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক আবু নাসের মু. মুনীরউজ্জামান, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা ও অধ্যাপক এস এম এ রাশিদুল হাসান।
শহীদ পরিবারের সন্তানেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের বাবাদের নাম মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় ওঠেনি। তালিকায় নাম ওঠার জন্য প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি অনুরোধপত্র দেওয়া উচিত ছিল বলেও তাঁরা মনে করেন। সেই অনুরোধপত্র পেলে হয়তো এ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা তা বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা পালন করবে।
এক অনুষ্ঠানে শহীদ মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনির তন্ময় বলেন, শহীদ শিক্ষক বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়েন, তাঁরাই কম জানেন। অনেকে তেমন কিছু জানেন না। মুক্তিযুদ্ধে যেসব শিক্ষক শহীদ হয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন প্রগতিশীল, দার্শনিক, মানবতাবাদী। এসব বুদ্ধিজীবীর অজস্র লেখা রয়েছে, সেই সব লেখা ও চিন্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে জানতে পারেন, সে ব্যবস্থা খোদ বিশ্ববিদ্যালয়েরই করতে হবে। সেটি তারা এখনও করেননি।
শহীদ আনোয়ার পাশার ছেলে রবিউল আফতাব বুলবুল বলেন, আমার বাবার রাইফেল রোটি আওরাত উপন্যাস নিয়ে অনেক কথা হয়। কিন্তু এ ছাড়া তাঁর অনেক কাজ রয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে তা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পাঠাতেন। সব শহীদ বুদ্ধিজীবীরই গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। সেগুলো মানুষের মধ্যে প্রচার হওয়া উচিত।