আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে: ঢাবিতে ইরানের রাষ্ট্রদূত

১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৪ PM
ঢাবিতে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ অনুষ্ঠানে ইরানি রাষ্ট্রদূত

ঢাবিতে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ অনুষ্ঠানে ইরানি রাষ্ট্রদূত © সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজকে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি পার হতে ইরান সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানী রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী। রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইরানী রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন।

‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ: মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক এক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রদর্শনীতে রাষ্ট্রদূত বলেন,‘ যুদ্ধাবস্থার জন্য অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের কিছু জাহাজও হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে। আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করব। বাংলাদেশের জাহাজ ছাড়ার ব্যবস্থা করব। অতি দ্রুত জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিতে পারবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বিষয়েও তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। বাংলাদেশকে আমরা ভাইয়ের দেশ হিসাবেই মনে করি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নাই।’ 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি বলেন, ‘যুদ্ধ বিরতির আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ওমানসহ যারা আমাদের সহযোগিতা করেছে তাদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বলে দিয়েছে ইসলামাবাদে মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে আলোচনা করবে নয়তো তারা কোনো আলোচনা করবে না। আমরা আমেরিকাকে এই বার্তা দিয়েছি তারা যদি মর্যাদার ভিত্তিত আলোচনা করে তাহলে আমরা আলোচনা করব নয়তো করব না। আর যতদিন পর্যন্ত আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ততদিন আমরা হামলা করব না। তবে আমেরিকা যদি যুদ্ধবিরতি না মেনে হামলা চালায় তাহলে ইরানও হামলা করতে বাধ্য হবে।’

ইসলামাবাদ আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগেও আলোচনা করেছিলাম তার মধ্যেও আমেরিকা আমাদের উপর হামলা করেছে। আমরা এবারও নিশ্চিত ছিলাম আমেরিকা আসলে আমাদের জন্য কোনো শান্তি বা শান্তি চুক্তির জন্য আসেনি। তারা মূলত বিশ্বের কাছে দেখাতে চেয়েছে তারা শান্তি চায় আর ইরান যুদ্ধ চায়। আসলে আমেরিকা কখনো শান্তি চায় না। তারা ইরানের উপর এজন্য অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। আমেরিকার ভাষ্য হলো বিশ্বের সব দেশ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে পারবে কিন্তু ইরান হতে পারবে না।’

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সফল হয়নি জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘আমেরিকা মূলত ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হামলা চালিয়েছিলো। তারা ভেবেছিল হামলা চালালে ইরান বিরোধীরা রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকার পতন হবে। কিন্তু দেখা গেলো ইরানের জনগণ রাস্তায় ঠিকই নেমেছে কিন্তু সরকারের পক্ষে, আমেরিকার বিরুদ্ধে। আমেরিকার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে, তারা সফল হয়নি। আমেরিকা চেয়েছে হরমুজ প্রণালি নিজেদের মতো চালাবে কিন্তু সেখানেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।’ 


অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইল আজ ইরানের শিশুদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে। ইরানের স্কুলে বোমা হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যা করা বিশ্ববিবেকের ওপর চপেটাঘাত। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি করছি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী মরিয়ম জামিলা তামান্না।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ ও জিহাদী ইহসান, মোঃ আরিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সানোয়ারা খাতুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ আহমদ, ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসা শাখার আহ্বায়ক রকিব মণ্ডল, সদস্য সচিব জিনাত হোসাইন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সালমান ফারসি, মাহফুজুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, আল আমীন শেখ এবং জালালুদ্দিন রুমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ প্রমুখ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিবাদী কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় শহীদ ইরানি শহীদ শিশুদের প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুল ব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী এবং যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। এ সময় স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানি শিশুদের রক্ষায় মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রসান বিরোধী লড়াইয়ে শামিল হতে রক্ত ভেজা হাতের ছাপ দেন।
সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় সংহতি জানাতে জড়ো হন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা। সমাবেশের মূল আকর্ষণ ছিল সারিবদ্ধভাবে রাখা ছোট ছোট প্রতীকী কফিন, যা ইসরাইলি হামলায় নিহত নিরপরাধ ইরানি শিশুদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছে। এই দৃশ্য উপস্থিত সবার মধ্যে শোকের ছায়া ফেলে।

কর্মসূচিতে একটি ‘যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচি’ পালিত হয়। যেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ যুদ্ধ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে স্বাক্ষর করেন। এই গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপিটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোতে পাঠানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় নিহত শিশুদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া কামনার মাধ্যমে।

চলন্ত ট্রেনে পাথরের আঘাতে চোখ হারানো বাউবি শিক্ষার্থীকে আর্…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ওপর নিউমার্কেট যুবদলের হামলায় আহত ৮
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাবিতে ফের সমকামিতার অভিযোগ, দুই ছাত্রকে হল থেকে বহিষ্কার
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ওপর নিউমার্কেট যুবদলের হামলার অভিযোগ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী কারাগারে
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভার…
  • ১১ আগস্ট ২০২৬