ফাত্তাহ-২ © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তার আপত্তির বিষয়গুলাে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, কিন্তু মার্কিন শর্ত মানতে রাজি হয়নি ইরান। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—আবার যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে?
তেহরান জানায়, প্রণালিটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে এবং প্রতিদিন ১৫টির বেশি জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি শুল্ক আরোপের কথাও জানায় তারা, যাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘তোলাবাজি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই এই শুল্ক আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, তেহরানও ইঙ্গিত দিয়েছে—যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না তারা।
এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে পশ্চিম এশিয়ায় আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এবার আরও কঠোর জবাব দিতে পারে ইরান।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রথম দফার সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইরানের সবচেয়ে আধুনিক কিছু অস্ত্র তখন ব্যবহারই করা হয়নি।
ইরানের কাছে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ—দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রই রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির হাতে ৩ হাজারের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার পাল্লা ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। শাহাব, কিয়াম, ফতেহ ও সেজ্জিলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যে সংঘাতে ব্যবহার করেছে তেহরান।
বিশেষ করে সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র, যা ‘ডান্সিং মিসাইল’ নামে পরিচিত, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এবং কঠিন জ্বালানিচালিত একটি দ্বিপর্যায়ের অস্ত্র।
তবে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন ইরানের দুটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র—কাসিম বাশির ও ফাত্তাহ-২-এর দিকে। এখনো পর্যন্ত এই দুটি অস্ত্র সাম্প্রতিক সংঘাতে ব্যবহার করেনি তেহরান।
প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার কাসিম বাশির ক্ষেপণাস্ত্রটি কঠিন জ্বালানিচালিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। এটি ৫০০ কেজি ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং উন্নত ‘অপটিক্যাল টার্মিনাল সিকার’ থাকার কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাধা অতিক্রম করতে পারে বলে দাবি ইরানের। এমনকি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফাত্তাহ-২ একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা ঘণ্টায় প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত কম সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে, যদিও এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক।
কেন এই দুটি শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহার করা হয়নি—এ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি ইরানের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে গেলে এই অস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের ক্ষতি করার লক্ষ্য থাকতে পারে তেহরানের।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার সংঘাতে ইরান এই ‘গোপন অস্ত্র’ ব্যবহার করতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।