স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ডিও লেটার
এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ © সংগৃহীত
নিজ নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সকল বেসরকারি হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়ার দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এই চিঠি দেন তিনি।
ডিও লেটারে হাসনাত আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, দেবীদ্বারের একটি বেসরকারি হাসপাতালও সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় হাসপাতালগুলোর সরকার নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ১৫ দিনের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যর্থতায় সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ ডিও লেটারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সালাম ও সম্বোধন করে লিখেছেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা (কুমিল্লা-৪, দেবীদ্বার) উপজেলার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবন রক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়ে আপনার আশু ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্তৃক দেবীদ্বারের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের উপর প্রস্তুতকৃত তদন্ত রিপোর্টসমূহ আমাদের হস্তগত হয়েছে। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়—দেবীদ্বারের একটি বেসরকারি হাসপাতালেও সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক নীতিমালা ও ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করা হয়নি।’
তিনি লিখেছেন, ‘পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া বেআইনি পরিচালনা, অনুমোদিত বেডের দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বেড বসানোর মতো গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যায়। এছাড়া প্রয়োজনীয় ডিগ্রী ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ছাড়া সার্জারি ও সিজার পরিচালনা, মেয়াদোত্তীর্ণ বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশনধারী ডাক্তার ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট (স্যাকমো) দিয়ে রোগী দেখা এবং চিহ্নিত দালালদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সি-ক্যাটাগরির ল্যাবে অবৈধভাবে হরমোন ও ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা চালানো ও টিএলডি ব্যাচ ছাড়া রেডিয়েশন ঝুঁকিতে এক্স-রে করা এবং ওই রুমকে বসবাস করার ঘর বানিয়ে রাখার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দৃশ্যমান হয়। তাছাড়া ওটির ভেতর ভাঙা বাথরুম রেখে সংক্রামক পরিবেশ তৈরি করা, প্রসূতিদের লেবার রুমকে স্টোর রুম বানিয়ে রাখা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও সিবিসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায় ও ক্যাশ মেমোতে টাকার অংক না লিখে প্রতারণা করার মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
সরকারি প্রামাণ্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও এসব নিয়মবহির্ভূত ও মানহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেবীদ্বারের সকল শর্তভঙ্গকারী ও অবৈধ বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে সিলগালাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবং এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকালে কোনো রোগীর স্বাস্থ্যহানি বা জীবনহানির মতো ঘটনা ঘটে—তবে তার পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষকে এককভাবে বহন করতে হবে। দেবীদ্বারের জনগণের জীবন রক্ষার্থে আপনার দ্রুত ও সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।