ট্যাক্স আদায়ে গরমিল–অভিযোগের আঙুল ইউপি প্রশাসক-সচিবের দিকে

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ AM , আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ AM
প্রশাসক মো. নাহিদুল ইসলাম ও সচিব মো. হাসনাত টিটু

প্রশাসক মো. নাহিদুল ইসলাম ও সচিব মো. হাসনাত টিটু © টিডিসি সম্পাদিত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে চলতি বছরের হোল্ডিং/খানা ট্যাক্স আদায়ে বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে ৯ লাখ টাকার বেশি ট্যাক্স আদায় হলেও ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ডে জমা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ, ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশরা। আদায় করা বাকি টাকা কোথায় গেল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশরা। একই সঙ্গে পরিষদ প্রশাসনের সঙ্গে এ অনিয়মের কোনো যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ীই পরিষদে টাকা জমা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের জন্য তৃতীয় একটি পক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে ওই পক্ষ ইউনিয়নের বিভিন্ন খানা থেকে ট্যাক্স আদায় করে পরিষদে জমা দেওয়ার কথা।

মাঠপর্যায়ে ট্যাক্স আদায়ের পর কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরিষদে কত টাকা জমা দেওয়া হয়েছে এই দুই হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। পরিষদ প্রশাসকের পক্ষ থেকে সচিবকে ট্যাক্সের টাকা ও হিসাব বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হলেও আদায়কৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কর আদায় ও অর্থ জমার ক্ষেত্রে এমন অসঙ্গতি থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। মাঠপর্যায়ে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা পরিষদের হিসাবে জমা হয়েছে এবং বাকি অর্থের কী হয়েছে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে তা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের দাবি, নয়টি ওয়ার্ড থেকে ৯ লাখ টাকার বেশি ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে। অথচ নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে জমা হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে বাকি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা বা তারও বেশি অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের টাকা থেকে তাদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হয়। মাঠপর্যায়ে যে পরিমাণ টাকা আদায় হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন, পরিষদের হিসাবে তার তুলনায় অনেক কম টাকা জমা হয়েছে। বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে প্রকৃত হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. হাসনাত টিটু বলেন, ‘তিনি রিসিভে যে পরিমাণ টাকা পেয়েছেন, সেটিই পরিষদের হিসাবে জমা দিয়েছেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না।’

আরও দেখুৃন: বাউবির এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৩.৭৪ শতাংশ

তবে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা বুঝে নেওয়া এবং রিসিভ জমা দেওয়ার সময় ইউপি সদস্য বা গ্রাম পুলিশদের অবহিত করা হয়নি কেন এ প্রশ্নের বিষয়ে তিনি  বলেন, ‘বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক অবগত আছেন।’

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে সচিব বলতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষ সচিবকে যে হিসাব দিয়েছে, সেটার পরিমাণ হয়তো সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার মতো। প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় হয়েছে, সেটা তৃতীয় পক্ষ ও গ্রাম পুলিশ বলতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্যাক্স সংগ্রহের জন্য যাদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে, তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আবারও তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিধিবহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বাকি টাকাগুলো কোথায় গেছে, সেটা জানতে হবে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখবেন।’

ব্রাজিলের পর দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গেও খেলবে ভারত
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ সিটি নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী …
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
অবৈধ বালু উত্তোলন ও মজুদ করায় শ্যালু মেশিন ও পাইপ জব্দ
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
ঘরের মাঠে ঝড় তুলল বার্সেলোনা
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করল ৭ বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
ট্যাক্স আদায়ে গরমিল–অভিযোগের আঙুল ইউপি প্রশাসক-সচিবের দিকে
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬