রাড্ডা ক্লিনিকে পরিদর্শনে যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী © সংগৃহীত
আগামীকাল সোমবার সকালেই মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনর্নির্মাণ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নিজস্ব অর্থায়নে এই নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে ধ্বংসস্তূপে পরিণহত হওয়া রাড্ডা ক্লিনিক পরিদর্শন শেষে এই ঘোষণা দেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, আগামীকাল থেকেই এটিকে সংস্কার করে যে সেবামূলক কার্যক্রম রয়েছে, সে কার্যক্রম যেন চলমান থাকে এবং ব্যাহত না হয়, সেজন্য আমি নিজেই ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে এটিকে যত দ্রুত সম্ভব সংস্কারের ব্যবস্থা নেব।
তিনি বলেন, যারা রাতের অন্ধকারে এই অপকর্মটি করেছে, আমি তাদের কাছে আহ্বান করব—আপনাদের যদি কোনো লিগ্যাল ইস্যু থাকে, আপনারা আইনের মাধ্যমে এসে সেটাকে দাবি করেন। তখন নিয়মের ভেতর থেকে আইনগত যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তখন আমরা সে পদক্ষেপ নেব।
রাড্ডা ক্লিনিকের জমিটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা চাই এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই এলাকার গরীব নারী ও শিশু যারা রয়েছে, তারা যেন সেবা পায় এবং তা ব্যাহত না হয়, তার দিকে আমরা দৃষ্টি রাখব।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে মুখোশ পরা ২৫০ জনের বেশি লোক দুর্বৃত্তদের মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে তারা ক্লিনিকের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করে এবং স্থাপনা ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পরদিন শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করা হলে এ পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে ঘটনার পর পুলিশের কোনো অবহেলা বা ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিএমপি কমিশনার ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে অবহেলা পাওয়ায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় মামলার একমাত্র আসামী শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ মিয়া এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম উঠে এসেছে।