শনিবার ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্লিনিকের সামনে সেবা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা © সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি (মাতৃ-শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা) সেন্টারের ধ্বংসস্তূপেই টিকাদান সেবা অব্যাহত রেখেছেন ক্লিনিকটির কর্মীরা। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনভর ক্লিনিকের সামনে ত্রিপল টানিয়ে হামের টিকা দেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় হানিফ মিয়া (৫০) নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতে নেওয়া হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এ ঘটনায় এখনও মামলার একমাত্র আসামি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া এ ঘটনায় নাম এসেছে এক নারী এমপিরও।
শাহ আলী থানার ওসি গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) এবং মো. রাব্বি (২০)। তারা স্থানীয় ভাসমান বাসিন্দা। অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নিয়েছিল বলে তারা স্বীকার করেছে। পরে তাদের আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
মামলায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা হামলাকারীরা প্রায় ৫ লাখ টাকার সরকারি ইপিআই টিকা, ওষুধ, ৪৫ লাখ টাকার আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি এবং নগদ টাকাসহ প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
লুটপাটের পর ভারি যন্ত্রপাতি (যেমন এক্সকাভেটর বা বুলডোজার) ব্যবহার করে একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এই ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে লেখা হয়েছে, জমিটি সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ থেকে ইজারা নিয়েছে।
১৯৭৬ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেবা দেওয়ার অধিকার পায় রাড্ডা। এরপর সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে প্রসূতি মা ও শিশুদের সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটির। এর কর্মকর্তাদের ধারণা, ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক মানুষ এখান থেকে সেবা নেন। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মা, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও বয়স্করা এই সেবার ওপর নির্ভরশীল। ভাঙচুরের পর তারা আর সেবা নিতে পারছেন না। যদিও শনিবার ভগ্নস্তূপের ওপর স্বল্প পরিসরে টিকাদান সেবা চালু হয়েছে।