ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ করেছেন কওমি ছাত্র ঐক্যের © সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ করেছেন কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ না করলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শনিবারের কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি হাসনাত আব্দুল্লাহ ও এনসিপিকে বয়কটেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। রাতে শহরের জামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় এনসিপি ও হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, হুজুরদের দোষারোপের পুরোনো সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন ঘটনার জন্য আলেম-উলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের দায়ী করার যে প্রবণতা ছিল, তার পুনরাবৃত্তি তারা চান না।
তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে উচ্চ শব্দে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচার যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি নৌকাবাইচ বন্ধের ঘটনায় সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ যেভাবে ‘তৌহিদি জনতাকে’ দায়ী করেছেন, সেটিও অনাকাঙ্ক্ষিত।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, নৌকাবাইচ বন্ধের পেছনে এলাকার কৃষকদের ভিন্ন একটি কারণ ছিল। কৃষকেরা তাদের জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিষয়টি আলেম-উলামা ও তৌহিদি জনতার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহকে তারা শত্রু মনে করেন না। জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মধ্যেও কোনো বিভেদ বা সংঘাত চান না। তারা ঐক্য ও সম্প্রীতি চান। তবে বক্তব্যে ‘তৌহিদি জনতা’ ও আলেম-উলামাকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করা হয়ে থাকলে অবশ্যই প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।
তারা আরও বলেন, জুলাইয়ের শক্তির ঐক্য চান তারা, সংঘাত নয়। তবে ইসলাম ও আলেম-উলামাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপের পুরোনো সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
কওমি ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা ঘোষণা দিয়েছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ না করলে শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা প্রতিহত করা হবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির ওই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মসূচিকে ঘিরে বিক্ষোভ ও প্রতিহতের ঘোষণায় জেলায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এনসিপির কোনো নেতাকে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। হাসনাত আব্দুল্লাহরও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে হাসনাত প্রশ্ন করেন, ‘এই ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’
তার এই বক্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকেও এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এর পরদিন শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কওমি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, শনিবারের এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শহরের নিরাপত্তার বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।