৪০ লাখ বছরে মানুষের মস্তিষ্ক বেড়েছে ৫ গুণ, নেপথ্যে কী কারণ?

১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৪ AM , আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ AM
প্রতীকি ছবি

প্রতীকি ছবি © সংগৃহীত

লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষের মস্তিষ্কের আকার ও সক্ষমতা বেড়েছে। এই বিবর্তনের পেছনে প্রাণীজ প্রোটিনের পাশাপাশি শর্করা বা গ্লুকোজসমৃদ্ধ খাবারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, ফলমূল ও মধুর মতো প্রাকৃতিক মিষ্টি খাবার থেকেই প্রাচীন মানুষ মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় শক্তির বড় একটি অংশ পেত।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানীর নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স সাময়িকীতে।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ বছরে মানুষের মস্তিষ্কের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাক্‌মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ছিল প্রায় ৩০০ গ্রাম। আর আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম। মস্তিষ্কের আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর জন্য প্রয়োজনীয় গ্লুকোজের পরিমাণও বেড়েছে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ জেনি ব্র্যান্ড-মিলার। তার মতে, কাঁচা স্টার্চ থেকে সহজে গ্লুকোজ তৈরি হয় না। ফলে মানুষ যখনও দানাশস্য নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যুক্ত করেনি এবং রান্নার প্রচলনও হয়নি, তখন শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল ফলমূল ও মধুর মতো মিষ্টি খাবার।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারেন হার্ডি মনে করেন, মানুষের বিবর্তনে মাংস ও প্রাণীজ প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা হয়েছে। তবে বিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই শক্তির একটি বড় উৎস ছিল উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ।

গবেষকদের মতে, প্রাণীজ প্রোটিন মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও বিকাশের জন্য গ্লুকোজও অপরিহার্য। অন্যান্য অনেক প্রাণীর তুলনায় মানুষের মস্তিষ্ক বড় হওয়ায় এর গ্লুকোজের চাহিদাও বেশি। লক্ষ লক্ষ বছর আগে ফলমূল ও মধুর মতো খাবার সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

মানুষের মস্তিষ্কের বিবর্তনে গ্লুকোজের ভূমিকা বোঝার জন্য গবেষকেরা একটি মডেল ব্যবহার করেন। এতে প্রায় ৪০ লাখ বছরের বিবর্তনকে ছয়টি পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়। মস্তিষ্কের পাশাপাশি লোহিত রক্তকণিকা, কিডনি, প্রজনন কোষ ও প্ল্যাসেন্টার জন্য প্রয়োজনীয় গ্লুকোজের পরিমাণও বিবেচনায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে মানুষের খাদ্যতালিকায় প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ খাবারের অনুপাত বদলেছে। বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ প্রাণীজ প্রোটিনের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, শাকসবজি ও দানাশস্য খেতে শুরু করে। এর ফলে শরীরে শর্করার উৎসও পরিবর্তিত হয়।

আরও দেখুন: গোপালগঞ্জে ৬৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

গবেষকদের মতে, হোমো হ্যাবিলিস ও হোমো ইরেকটাসের মতো প্রাচীন মানবগোষ্ঠী ফলমূলসহ শর্করাসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেত। পরে মানুষ আগুনের ব্যবহার ও রান্নার কৌশল আয়ত্ত করলে ওল, কচুর মতো শিকড়জাতীয় খাবারও খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীরকে শক্তি জোগাত এবং মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করত।

জেনি ব্র্যান্ড-মিলারের মতে, কার্বোহাইড্রেটের কথা বললে এখন সাধারণত দানাশস্য বা পাউরুটির কথা মনে আসে। কিন্তু মানুষের বিবর্তনের সময় শর্করার প্রধান উৎস ছিল ফল ও মধু। এসব খাবার থেকেই মানুষ বিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পেত।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মানুষের শরীরে গ্লুকোজের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে মানুষের বিবর্তন ও মস্তিষ্কের বিকাশে শর্করার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণা নতুন একটি দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছে।

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা ধ্বংস করল যৌথবাহিনী
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
শেকৃবির গেটে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বনানীর সেতু ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
কুয়াকাটায় ঘুরতে গিয়ে প্রাণ হারালেন সলিমুল্লাহ মেডিকেলের চিক…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, আহত শিক্ষার…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
‎জাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে,…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950