আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল © সংগৃহীত
আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের (এনএইচএ) আহ্বায়ক প্রফেসর শাদরুল আলম ও সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ।
এনসিপি সমর্থিত চিকিৎসকদের এই সংগঠনের নেতারা শনিবার (১৩ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী এই হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলে দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেলে লাখো সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত গর্ভবতী মা, নবজাতক ও জরুরি চিকিৎসা প্রত্যাশী রোগীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আসছে। এখানে মাত্র ৪,৫০০ টাকায় নরমাল ডেলিভারি, স্বল্প ব্যয়ে সিজার ও অন্যান্য অপারেশন এবং কম খরচে আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিস ও এনআইসিইউ সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া বহির্বিভাগে মাত্র ২২০ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
হাসপাতালটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এখানে ১ কোটি ৫৭ লাখের বেশি রোগী সেবা নিয়েছেন, ২০ লাখের বেশি মা মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন এবং ৯৫ হাজারের বেশি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ২ লাখ ৮ হাজারের বেশি সিজারিয়ান অপারেশন ও ১০ লাখের বেশি মা-শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার বহির্বিভাগের এবং ১৫০ জন ভর্তি রোগী এখান থেকে সেবা পান। ১০১ শয্যার এনআইসিইউসহ উন্নত নবজাতক সেবা ও নারীবান্ধব চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তারা বলেন, যেসব গাফিলতির কারণে এসব শিশু মারা গেছে, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মৃতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ যাবতীয় প্রয়োজন পূরণের জন্য আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ঘটনার তদন্তের স্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের খারাপ আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান তারা।
এই পরিস্থিতিতে জনগণের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার রক্ষা এবং আদ্-দ্বীনে কর্মরত সব চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবিকার অনিশ্চয়তা দূর করতে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স।