আবেদনের যোগ্য না হয়েও হজ মেডিকেল টিমে যুক্ত হলেন নার্স

১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৯ PM , আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২০ PM
আগের তালিকা থেকে ২৩ জনকে বাদ দিয়ে নতুন যুক্ত করা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে এক নার্সের বয়সের শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে

আগের তালিকা থেকে ২৩ জনকে বাদ দিয়ে নতুন যুক্ত করা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে এক নার্সের বয়সের শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠেছে © প্রতীকী ছবি

হজ মৌসুমে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হাজীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুত করা হজ মেডিকেল টিম থেকে ২৩ জনকে বাদ দেওয়ার পর নতুনদের যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ১২ দিন আগে নতুন ২৩ জনকে যুক্ত করে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, শর্ত লঙ্ঘন করে সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া এক নার্সও এই টিমে স্থান পেয়েছেন। আরও কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধেও আবেদন না করেই টিমে স্থান পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ বিএনপি সরকার গঠনের পর  বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েন অব বাংলাদেশ-ড্যাব স্বাস্থ্যখাতের একক প্রভাবশালী সংগঠন হয়ে উঠেছে, ফলে এই রদবদল এবং অনিয়মের সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্ক রয়েছে।

গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত জিও জারি করা হয়। এতে ১৮০ জনের নাম ছিল। পরে পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের ছুটি শুরুর একদিন আগে শেষ কর্মদিবস গত ১৬ মার্চ পূর্বে গঠিত টিমের ২৩ সদস্যদকে বাদ দিয়ে নতুন আদেশ আসে। বাদ পড়া সবাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

আরও পড়ুন: বিএনপিপন্থীদের ঢোকাতে আগের তালিকা থেকে আউট ২৩ ডাক্তার-নার্স-ফার্মাসিস্ট

জানা গেছে, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে দুটি পর্যায়ে এই টিমের সৌদি আরবে উড়াল দেওয়ার কথা রয়েছে। গত ১৬ জুন বাদ পড়া হজ মেডিকেল টিমের সদস্যরা ওই সময়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছিলেন, ততদিনে টিমের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, বাকি ছিল কেবল ভিসা অনুমোদন। এমন সময়ে হঠাৎ করেই টিম থেকে বাদ দেওয়া হয় তাদের। এর মধ্যে ছিলেন ১০ চিকিৎসক, ৪ জন নার্স, ৭ জন ফার্মাসিস্ট ও দুইজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। ওই সময়ে দলীয় বিবেচনায় বিএনপিপন্থী চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের স্থান দিতে তাদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তারা।

চাকরিতে প্রবেশ করেই হজ মেডিকেল টিমে
যুক্ত হওয়া নতুন ৪ নার্সের মধ্যে তালিকায় প্রথমে থাকা কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তাসলিমা আক্তারের নামের পাশে ইউআইডি নম্বর দেওয়া রয়েছে। এর সূত্র ধরে যাচাই করে দেখা গেছে, তাসলিমা আক্তার গত বছরের ৩১ সেপ্টেম্বর চাকরিতে যোগদান করেন। এ হিসেবে চাকরিতে যোগদানের মাত্র ৫ মাসেই তিনি হজ মেডিকেল টিমে যোগদানের সুযোগ পেয়েছেন। যদিও সরকারি চাকরিতে যোগদানের সর্বোচ্চ বয়স ৩০ বছর। তবে প্রতিবন্ধী অথবা মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকলে ৩২ বছর পর্যন্ত চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। এ হিসেবে তাসলিমা আক্তারের বয়স কোনোভাবেই ৩২ বছর ৫ মাসের বেশি নয়।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে নাম আহ্বান করে ২৫ নভেম্বরের চিঠির পর ২৭ নভেম্বর আবেদন আহ্বান করে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। ওই চিঠিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিপরীতে ২৪ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বিপরীতে ৭ জনের নাম চাওয়া হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে হজ মেডিকেল টিমটি ‘হজযাত্রী স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা-২০১৮’ অনুসরণ করে প্রণয়ন করা হয়।

এই নীতিমালার ৭.১ থেকে ৭.৬ পর্যন্ত হজ মেডিকেল টিমে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭.২ নীতিমালায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স ৩৫-৫৫ বছর হতে হবে।

May be an image of the Western Wall and text
হজযাত্রী স্বাস্থ্য সেবা নীতিমালা, ২০১৮

বিএনপিপন্থী ছাড়াও যুক্ত হয়েছেন আওয়ামীপন্থীরাও
নতুন তালিকায় ১০ জন চিকিৎসক যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের যুক্ত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তালিকায় যুক্ত হওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ৯ নম্বরে (মূল তালিকায় ৭৯) রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওএসডি থাকা চিকিৎসক ডা. মোহা. শামসুল হক। তিনি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে সংযুক্তিতে রয়েছেন। সেখানেও তিনি আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত।

আমাদের এখান থেকে কোনো অনিয়ম হয়নি। হজ মেডিকেল টিমের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে নাম চেয়েছিল। আমরা দিয়েছি, কিন্তু আমাদের দেওয়া তালিকা থেকে কতজনকে যুক্ত করা হয়েছে বা কাকে কাকে রাখা হয়েছে, কাকে রাখা হয়নি এটি আমরা জানি না। আমাদেরকে কোনো নোটিশও দেওয়া হয় না এ বিষয়ে। এ ছাড়া ডিজিএনএমের বাইরেও বিভিন্নভাবে এই টিমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে— বদরুল আলম, পরিচালক (প্রশাসন), নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ডা. শামসুল হক ঢামেক হাসপাতালে আওয়ামীপন্থী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি স্বাচিপের লাইফ মেম্বার হওয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক আসামী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঢামেক হাসপাতালে প্রভাবশালী ছিলেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে শাস্তিস্বরূপ বদলি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে ঢামেকে হামলা, যা রয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে

চিকিৎসকরা বলছেন, হজ মেডিকেল টিমে যোগ্য চিকিৎসক যেতে তাদের আপত্তি নেই, তাতে তিনি যে দলেরই হোক। কিন্তু নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের সুবিধা দিতে প্রস্তুতকৃত তালিকা থেকে কয়েকজনকে বাদ দিয়ে দেওয়া অন্যায়। উপরন্তু এতে পলাতক ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ডা. শামসুল হক হজ মেডিকেল টিমের জন্য আবেদনও করেননি।

ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, ডা. শামসুল হক ছাড়াও এ তালিকায় আরও বেশ কয়েকজন আওয়ামীপন্থী চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে আগের তালিকাতে স্থান পাওয়া ডা. মোহাম্মদ মুরাদ হোসেনও স্বাচিপের লাইফ মেম্বার। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাকে শাস্তিমূলক নীলফামারীতে বদলি করা হয়।

নতুন তালিকায় আরও যারা যুক্ত হলেন
আগের তালিকা থেকে ২৩ জনকে বাদ দেওয়ার পর নতুন করে ২৩ জনকে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ চিকিৎসক হলেন— স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার (এমবিডিসি) ডা. আরিফুর রহমান, গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, ডা. মাহবুব আরেফিন রেজানুর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মশিউর রহমান সরকার, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্টার (নিউরোলজি) ডা. মুহাম্মদ জামিল আহমেদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেসিডেন্ট সার্জন (ভাস্কুলার সার্জারি) মো. মঞ্জুরুল হাসান, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (শিশু বহির্বিভাগ), ডা. সাখওয়াত হোসেন, এনেসথেসিওলজিস্ট ডা. মো. বাবুল হোসেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (নন-ইনভেসিভ কার্ডিওলজি) ডা. মো, বন্দে আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সহকারী সার্জন, ডা. মোহা. শামসুল হক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আমির-উল-মূলক।

তালিকায় যুক্ত হওয়া ৪ নার্স হলেন— কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তাসলিমা আক্তার, সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার মোছা. লতিফা হেলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভীন ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. রেখা খাতুন।

আরও পড়ুন: ট্রেন্ড বদলে সময়ের আগেই আক্রমণে হাম, এক হাসপাতালেই মৃত্যু ২২ জনের

যুক্ত হওয়া ফার্মাসিস্টরা হলেন— ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্সেস ও হাসপাতালের মো. আসাদুল্লাহ মিয়া, শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মো. আব্দুল কাদের, টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সহদেবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মো. ফিরোজ হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মো. মরতুজ আলী, লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালের মো. জসিম উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের গোলাম ফারুক ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মো. শাহাদত হোসেন। দুই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হলেন— মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) মো. রুবেল আহমেদ ও জাতীয় কিডনী ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অটোক্লেভ স্টাবিলাইজার অপারেটর মো. জাহাঙ্গীর আলম।

আর্থিক লেনদেন ও ড্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেডিকেল টিমের সদস্যদের সাধারণত রাষ্ট্রীয় খরচে হজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। খুব ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে কেউ বাদ হজ থেকে বাদ পড়েন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সুবিধাও পান তারা। এর মধ্যে চিকিৎসকদের প্রত্যেককে ১২ লাখ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ৮ লাখ টাকা করে ভাতা দেয় সরকার। সৌদি আরব যাওয়ার আগেই এর এক-তৃতীয়াংশ পরিশোধ করা হয়। ফলে ২৩ জনকে বাদ দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি আর্থিক সুবিধাও জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসব অনিয়মের সঙ্গে ড্যাব কোনোভাবেই জড়িত নয়। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হজ মেডিকেল টিমের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে একটা তালিকা দিয়েছিলাম। নতুন করে টিম গঠনের সময় আমরা কোনো তালিকা দেইনি। এসবের পেছনে প্রভাবশালী মন্ত্রীরা জড়িত থাকতে পারেন— অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, সভাপতি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যাদের নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে তারা হজ টিমে অন্তর্ভুক্তির আবেদনই করেন নাই, আবেদন শর্তে ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর উল্লেখ ছিল। অথচ ৫ মাস হল সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছে এমন নার্সকেও তারা অন্তর্ভুক্ত করেছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এমন অনিয়ম করেছে।

একজন চিকিৎসক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এটি আমাদের ওপর অনেক বড় জুলুম করা হয়েছে। আমাদের সবকিছু প্রস্তুত ছিল। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন। দেখা গেল শুধুমাত্র দলীয় কারণে নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। তাও মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু দলীয় লোক ঢুকাতেও অনিয়ম করা হচ্ছে। মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ছাড়া এরকম অনিয়ম হওয়ার কথা না।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা
এ বিষয়ে জানতে বয়সের শর্ত লঙ্ঘন করে তালিকায় যুক্ত হওয়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তাসলিমা আক্তারের মুঠোফোনে কল দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কল কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি। আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) লাইফ মেম্বার ডা. মো. শামসুল হক আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হজ মেডিকেল টিমের আবেদন না করেও স্থান পাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যথাসময়ে সঠিক নিয়ম মেনেই আবেদন করেছি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে ড্যাব কোনোভাবেই জড়িত নয়। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হজ মেডিকেল টিমের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে একটা তালিকা দিয়েছিলাম। নতুন করে টিম গঠনের সময় আমরা কোনো তালিকা দেইনি। এসবের পেছনে প্রভাবশালী মন্ত্রীরা জড়িত থাকতে পারেন। তবে প্রভাবশালী মন্ত্রীদের পরিচয় জানতে চাইলে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি ড্যাব সভাপতি।

বয়সের শর্ত লঙ্ঘন করে হজ মেডিকেল টিমে নার্স যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নার্সিং ও মিডওয়াইফারির (ডিজিএনএম) পরিচালক (প্রশাসন) উপসচিব বদরুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের এখান থেকে কোনো অনিয়ম হয়নি। হজ মেডিকেল টিমের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে নাম চেয়েছিল। আমরা দিয়েছি, কিন্তু আমাদের দেওয়া তালিকা থেকে কতজনকে যুক্ত করা হয়েছে বা কাকে কাকে রাখা হয়েছে, কাকে রাখা হয়নি এটি আমরা জানি না। আমাদেরকে কোনো নোটিশও দেওয়া হয় না এ বিষয়ে। এ ছাড়া ডিজিএনএমের বাইরেও বিভিন্নভাবে এই টিমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

এর আগে ‘বিএনপিপন্থীদের ঢোকাতে আগের তালিকা থেকে আউট ২৩ ডাক্তার-নার্স-ফার্মাসিস্ট’ শিরোনামে গত ১৯ মার্চ একটি ‍প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। ওই সময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের হজ-২ শাখার উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছিলেন, মেডিকেল টিমের বড় অংশই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে প্রপোজাল দেয়, সেটার ওপরে ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছিলেন, এটা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রী পর্যায়ের এখতিয়ার। কোনটা পরিবর্তন হবে, কোনটা হবে না, এটা সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত বকুল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা সচল পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত ১৯ মার্চ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, হজ মেডিকেল টিমের তালিকার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। কী হয়েছে তাও তিনি জানেন না। তবে হজ টিম বদল হতেই পারে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটা আদেশ দিয়েছিল, এর মধ্যে হয়তো বা ডিপার্টমেন্টে কোনটা বাদ করে থাকতে পারে। ডিপার্টমেন্ট হয়তো রিপ্লেস করে, যেটা স্বাভাবিক। রিপ্লেসমেন্ট হতেই পারে।

নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল আ.লীগকেও হার মানিয়েছে: জা…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় জবি শিক্ষকের ওপর হামলা, অভিযুক্ত গ্র…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
কোচিংয়ের প্রশ্নের ছবি পোস্ট করে এসএসসি প্রশ্নফাঁসের গুজব
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা বোর্ডে এইচএসসিতে যুক্ত হলো নতুন ৫ কেন্দ্র
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের ওপর হামলা বন্ধের প্রস্তাব আটকে দিল রিপাবলিকানরা, ট্র…
  • ১০ এপ্রিল ২০২৬
close