শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন © টিডিসি ফটো
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং অযথা কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নতুন শিক্ষা কারিকুলাম ও সিলেবাস তৈরি করছে সরকার। একই সাথে নতুন শিক্ষাবর্ষের সম্পূর্ণ পরিমার্জিত বই আগামী ডিসেম্বরের বড়দিনের আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার মধ্যে একটি নিখুঁত সমন্বয় (সিনক্রোনাইজেশন) তৈরি করা হচ্ছে, যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে বসে থাকতে না হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা আনন্দদায়ক করতে এবং মুখস্থ বিদ্যার বদলে ‘ক্রিয়াটিভ এডুকেশন’ বা সৃজনশীল লেখাপড়া নিশ্চিত করতে সিলেবাস ও কারিকুলামে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে মাধ্যমিক স্তরের বইগুলো পরিমার্জন করা হয়েছে এবং নতুন ৪টি বিষয় পরীক্ষামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন সিলেবাস ও কারিকুলাম চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
এ সময় তিনি আরও জানান, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফল দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের বিষয়ে তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব স্কুলে সংশোধিত ও পরিমার্জিত নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে বই হাতে পায়।
কোচিংনির্ভরতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এমনভাবে নতুন সিলেবাস ও কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীদের অযথা কোচিং সেন্টারে যেতে না হয়। শিক্ষার্থীদের শুধু চার দেয়ালের মধ্যে পাঠদানে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।