স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন © টিডিসি সম্পাদিত
সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ‘পল্লী ডাক্তার’ ধারণাকে পুনরুজ্জীবিত করছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে লোকাল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও পরিবার পরিকল্পনা (এলএমএএফ) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় পল্লী চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় সংসদে গ্রামীণ চিকিৎসা সেবায় ‘পল্লী ডাক্তার’ মডেল চালুর উদ্যোগের এমন তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
নওগাঁ-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি বলেন, সরকার গ্রামীণ চিকিৎসা পেশাজীবীদের উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে; যার মধ্যে ‘পল্লী ডাক্তার’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পল্লী ডাক্তাররা লোকাল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও পরিবার পরিকল্পনা (এলএমএএফ) কোর্সের অধীনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হন এবং গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন; যেখানে এলএমএএফ কোর্সের ভিত্তিতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে এই কোর্স স্থগিত থাকলেও সম্প্রতি নতুনভাবে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার (সিএইচডব্লিউ) সার্টিফিকেট কোর্স চালু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে চিকিৎসা সেবাকে সহজলভ্য করার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাকে আরও তরান্বিত করার লক্ষ্যে পল্লী চিকিৎসকের ধারণার আলোকে নতুন করে কিছু করার পরিকল্পনার প্রধানমন্ত্রী এই ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। তিনি একটু নতুনভাবে চিন্তা করে এ ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করতে পারি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, পূর্বে গ্রামীণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা সাধারণত স্থানীয় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে পেতেন; যাদের এলএমএএফ কোর্স শেষ করার পর ‘পল্লী ডাক্তার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো। এটি বাংলাদেশে ৬ মাস থেকে ২ বছরের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম; যা গ্রামীণ চিকিৎসক বা ফার্মেসি ম্যানেজারের ভূমিকার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসা, ফার্মাসি ও পরিবার পরিকল্পনার জ্ঞান প্রদান করে।
তবে ২০০৮ সাল থেকে স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (এসএমএফ) এই কোর্সের সার্টিফিকেট ইস্যু স্থগিত করেছে। এসএমএফ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান; যা দেশের চিকিৎসা পেশাজীবীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ তদারকি করে—মন্ত্রী বলেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে এসএমএফ সম্প্রতি এক বছরের কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার (সিএইচডব্লিউ) সার্টিফিকেট কোর্স চালু করেছে। এই কোর্সের মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা সুসংগঠিত ব্যবস্থার আওতায় প্রশিক্ষিত হবেন এবং সরকারের ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার (ইউএইচসি) ও এসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ (ইএসপি) বাস্তবায়নে অবদান রাখবেন।
নতুন কোর্সগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, অ্যানাটমি, ফার্স্ট এইড, ফার্মাকোলজি এবং কমিউনিটি মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিষয় শিখবেন। এই প্রশিক্ষণ গ্রামীণ সম্প্রদায় এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে, এবং কিছু কোর্স স্বেচ্ছাসেবী ও পেশাজীবীদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণও প্রদান করবে।