খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে যে ভুলগুলো করবেন না, জানালেন চিকিৎসক

২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:১০ PM , আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৫ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি

ফিটনেসচর্চা ও খেলাধুলার সময় অনেকেই হঠাৎ বিভিন্ন ধরনের আঘাত বা ব্যথার শিকার হন। তবে চিকিৎসকদের মতে, খেলাধুলায় অধিকাংশ আঘাত শুধু আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে হয় না; ভুল প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং শরীরের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করাও এর বড় কারণ। সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতার মাধ্যমে এসব আঘাত বা ব্যথার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ের কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক্স ও জয়েন্ট প্রতিস্থাপন শল্যচিকিৎসক) সোহম মণ্ডল বলেন, ‘সঠিক প্রশিক্ষণ, শরীরকে উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করা এবং সচেতনতা বজায় রাখলে অধিকাংশ খেলাধুলাজনিত আঘাত প্রতিরোধ করা যায়। আঘাতের পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলেও সুস্থ হতে কম সময় লাগে এবং দীর্ঘমেয়াদে হাড় ও অস্থিসন্ধির ক্ষতির ঝুঁকি কমে।’

আঘাত বা ব্যথার লাগার কারণ
সোহম মণ্ডল বলেন, ‘শরীর যে পরিমাণ চাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত, তার তুলনায় বেশি চাপ পড়লে খেলাধুলাজনিত চোট হতে পারে। হঠাৎ প্রশিক্ষণের মাত্রা বা সময় বাড়ানো, ওয়ার্ম-আপ বাদ দেওয়া, শরীরচর্চার মধ্যে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া এবং ভুল কৌশলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করা এসব আঘাতের অন্যতম কারণ।’

অর্থোপেডিক চিকিৎসায় সাধারণত গোড়ালি মচকে যাওয়া, অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্টে (এসিএল) ব্যথা, মেনিস্কাসে ছিঁড়ে যাওয়া, কাঁধের রোটেটর কাফের ব্যথা এবং চাপজনিত হাড়ের সূক্ষ্ম ফাটল দেখা যায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে টেনিস এলবো ও অ্যাকিলিস টেন্ডনের প্রদাহের মতো সমস্যাও বাড়ছে। অবসর সময়ে খেলাধুলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও এসব ব্যথা দেখা যাচ্ছে।

আঘাত প্রতিরোধে যা করবেন
খেলাধুলায় আঘাত এড়াতে সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের পাশাপাশি পরিকল্পিত প্রস্তুতি জরুরি। অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ওয়ার্ম-আপ করলে পেশি, টেন্ডন ও অস্থিসন্ধি শারীরিক পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত হয়। এতে রক্তসঞ্চালন ও শরীরের নমনীয়তা বাড়ে।

ব্যায়ামের পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কসরৎ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে পেশির শক্তভাব কমে এবং শরীর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করে।

পেশির শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যায়ামও নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হওয়া উচিত। শক্তিশালী পেশি শরীরের ওপর পড়া ধাক্কা ভালোভাবে সামলাতে পারে এবং অস্থিসন্ধি ও লিগামেন্টের ওপর চাপ কমায়। তবে প্রশিক্ষণের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। হঠাৎ শরীরচর্চার সময় বা তীব্রতা বাড়ালে আঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

খেলার ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত জুতো ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করাও জরুরি। পুরনো বা অনুপযুক্ত জুতো শরীরের স্বাভাবিক চলাফেরার ধরন বদলে দিয়ে আঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভারী ওজন তোলা বা বেশি ধাক্কা তৈরি হয় এমন খেলাধুলার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সঠিক কৌশল শেখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

আঘাত লাগলে বরফ দেওয়ার সঠিক নিয়ম
হঠাৎ পেশি বা অন্যান্য নরম টিস্যুতে আঘাত লাগলে প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে প্রচলিত আরআইসিই পদ্ধতি-বিশ্রাম, বরফ, চাপ প্রয়োগ এবং আহত অঙ্গ উঁচু করে রাখা ব্যথা, ফোলাভাব ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বরফ সরাসরি ত্বকের ওপর দেওয়া উচিত নয়। কাপড়ে মুড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে বরফ দেওয়া যেতে পারে। ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ এবং আহত অঙ্গ হৃদপিণ্ডের স্তরের ওপরে তুলে রাখলেও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। তবে তীব্র ব্যথা, অঙ্গের দৃশ্যমান বিকৃতি, শরীরের ওজন নিতে না পারা, বারবার অস্থিসন্ধি দুর্বল বা অস্থির হয়ে যাওয়া কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ফোলাভাব দেখা দিলে দ্রুত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্যথা থাকা অবস্থায় খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া বা আঘাতের কারণ না জেনে বারবার ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া টিস্যুর ক্ষতি বাড়াতে পারে এবং সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে।

পুরোপুরি সুস্থ না হয়ে খেলায় ফিরবেন না
আঘাতের পর ব্যথা কমে গেলেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাওয়া বোঝায় না। লিগামেন্ট, টেন্ডন ও হাড়ের সম্পূর্ণ মেরামতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। খুব দ্রুত খেলায় ফিরলে একই জায়গায় আবার চোট লাগার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সুস্থ হওয়ার সময় অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ও রিকভারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী পরিকল্পনা অনুসরণ করা উচিত। এর মাধ্যমে অস্থিসন্ধির স্বাভাবিক নড়াচড়া ফিরিয়ে আনা, পেশির শক্তি পুনর্গঠন, শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় ক্ষমতা বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে খেলাধুলার প্রয়োজনীয় নড়াচড়ায় ফিরে যাওয়া সম্ভব।

এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতে সহায়তা করে। হাড়ের সুস্থতার জন্য ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান ও ঘুমও শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়াকে কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও দেখুন: সাইফ আলি খানের উপর হামলা: মার্সি পিটিশনের আবেদন অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক শরিফুল ইসলামের

যেসব লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
শরীরচর্চার পর সাময়িক পেশির ব্যথা হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। ফোলাভাব না কমলে, বারবার অস্থিসন্ধি বেঁকে গেলে বা হঠাৎ দুর্বল হয়ে এলে, হাঁটু আটকে গেলে, কোনো অঙ্গ স্বাভাবিকভাবে নাড়াতে না পারলে অথবা বিশ্রামের পরও ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন চিত্রনির্ভর পরীক্ষা বা স্ক্যানের মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে স্থায়ী অস্থিসন্ধির ক্ষতি হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

আধুনিক অর্থোপেডিক চিকিৎসায় খেলাধুলাজনিত আঘাতের চিকিৎসায় উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অস্থিসন্ধির অস্ত্রোপচার, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জীববৈজ্ঞানিক চিকিৎসা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পুনর্বাসন কর্মসূচি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মাধ্যমে অনেকেই নিরাপদে আগের সক্রিয় জীবনযাত্রায় ফিরতে পারছেন।

সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো আঘাত প্রতিরোধ। পেশির শক্তি বাড়ানো, শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখা, পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ অনুসরণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সময় দেওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হাড়, অস্থিসন্ধি ও পেশির সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ …
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
অ্যারিসটোফার্মা লিমিটেডে চাকরি, আবেদন ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
বিপিএল ইস্যুতে তামিমের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র দি…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
লঘুচাপে ভারী বৃষ্টির আভাস, কয়েক অঞ্চলে নদীর পানি বাড়ার শঙ্কা
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
বুয়েটে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমেসি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬