দুপুরে ঝিমুনি © টিডিসি ছবি
সকাল থেকে কাজের ব্যস্ততা। কিন্তু দুপুরের খাবার খাওয়ার পরই যেন চোখে ঘুম নেমে আসে। অফিসে বসে এই ঝিমুনির কারণে কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে অনেকের। ঘুমের ঘাটতি, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, পানি কম খাওয়া কিংবা দুপুরের খাবারের ধরন—সবকিছুই দুপুরের শক্তির মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই ঝিমুনি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সারাদিন বেশ চাঙ্গাই থাকেন অনেকে। কিন্তু বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢুলুনি আসে। বিকেল হলেই আবার কেটে যায় সেই ঘুমঘুম ভাব। কর্মব্যস্ত দিনে, বিশেষ করে অফিসে বসে দুপুরের এই ঝিমুনি নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। তখন ঘন ঘন কফি কিংবা চায়ের ওপর নির্ভর করেন অনেকে। ফিটনেস প্রশিক্ষক ডিম্পল জাংদার মতে, কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে দুপুরের এই ঘুমঘুম ভাব কাটানো সম্ভব।
কেন বেলার দিকে রোজ ঝিমুনি শুরু হয়?
অনেকেই মনে করেন, বেশি খাওয়ার কারণে দুপুরে ঝিমুনি আসে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সকালে কম খাওয়ার কারণেও এমন হতে পারে। তবে ডিম্পলের মতে, শরীরের শক্তি শুধু খাবারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। খাবার হজম হওয়ার পর শরীর কতটা পুষ্টি শোষণ করতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হজম ও পুষ্টি শোষণের প্রক্রিয়া ঠিকমতো না হলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরও ক্লান্ত লাগতে পারে। তবে দুপুরের ঝিমুনির একমাত্র কারণ অন্ত্রের সমস্যা বা পুষ্টি শোষণের ঘাটতি—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ঘুমের অভাব, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, পানি কম খাওয়া, দুপুরের খাবারের ধরন এবং দৈনিক জীবনযাপনের ছন্দও দুপুরের শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কোন তিন টোটকায় এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে?
খেজুর-ঘি খাওয়া: একটি খেজুরের সঙ্গে এক চা-চামচ ঘি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ফিটনেস প্রশিক্ষক ডিম্পল। খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা এবং ঘিতে ফ্যাট থাকে। তার মতে, এই সংমিশ্রণ দ্রুত শক্তি পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতেও সাহায্য করতে পারে।
কেশর-দুধ পান করা: মন-মেজাজ ভালো রাখতে ও ফুরফুরে থাকতে কেশরের দুধ পান করার পরামর্শও দিয়েছেন ডিম্পল। ১-২টি কেশর পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি খাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নৈশভোজে কম খাওয়া: রাতে ভারী খাবার খেয়ে দ্রুত ঘুমাতে গেলে খাবার ভালোভাবে হজম হয় না। এতে ঘুমের সময় শরীরে চলা কোষ মেরামতের প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। তখন শরীর বিশ্রামের বদলে খাবার হজমের কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে ঘুমের মান খারাপ হওয়ার পাশাপাশি হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়ে পরদিনের কর্মক্ষমতায়, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে শরীর।
তাই ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন ডিম্পল।