বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন তারেক রহমান © সংগৃহীত
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কিশোর-কিশোরীদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের জাতীয় প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
পরে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমাজে নানা ধরনের সংবাদ থাকলেও আজকের এই শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও প্রতিভা বিকশিত হওয়ার খবরটিকে যেন আগামীকালের সংবাদপত্রের লিড নিউজ বা প্রধান খবর করা হয়। এই শিশুরা এবং আজকের এই ইভেন্টই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক স্কুলে এখনো বসার জায়গা বা ফ্যানের সংকট রয়েছে, সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। তবে দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব এই প্রজন্মের তরুণ ও শিশুদেরই নিতে হবে। গ্যালারিতে বসে থাকা এই শিশুদের মধ্য থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ ডাক্তার, আর্কিটেক্ট, ইঞ্জিনিয়ার এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সুইমার ও টেনিস খেলোয়াড়রা বেরিয়ে আসবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। নিজেকে কখনো ছোট না ভেবে কঠোর পরিশ্রমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের কাছে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। যত্রতত্র প্লাস্টিক বা ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং নদী-নালা বা পুকুরের পানি পরিষ্কার রাখতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাড়ির ও স্কুলের আশেপাশে নিয়মিত গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন। পশুপাখির প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং তাদের ওপর যেকোনো ধরনের নিষ্ঠুরতা রোধ করার কথা বলেন তিনি।
সরকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, খেলাধুলা, গান ও শিল্পচর্চায় সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে বাবা-মা, শিক্ষক ও কোচেরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই খুদে খেলোয়াড়রাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ট্রফি জয় করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।