দীর্ঘদিন ধরে কানে শোঁ শোঁ বা গুনগুন শব্দ শুনছেন? জেনে নিন কী কারণ হতে পারে

১৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:১০ AM
টিনিটাসের প্রতিকী ছবি

টিনিটাসের প্রতিকী ছবি © এআই সম্পাদিত ছবি

বাইরে কোনো শব্দ না থাকলেও কানে ঘণ্টা বাজা, শোঁ শোঁ বা গুনগুন শব্দ শোনার সমস্যাকে টিনিটাস বলা হয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার একটি উপসর্গ। সাধারণত এক কানে এ ধরনের শব্দ অনুভূত হলেও দুই কানেও হতে পারে। টিনিটাস শব্দটি লাতিন ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ রিং বা ঘণ্টাধ্বনি।

এ সমস্যায় শোনা শব্দের তীব্রতা বিভিন্ন রকম হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা একটানা শব্দ হতে পারে, আবার কারও নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন অনুভূতি হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, টিনিটাস প্রধানত তিন ধরনের হতে পারে। 

সাবজেকটিভ টিনিটাস
সাবজেকটিভ টিনিটাসে বাইরের কোনো শব্দ ছাড়াই রোগী বিভিন্ন ধরনের অর্থহীন শব্দ শুনতে পান। এসব শব্দের মধ্যে ঘণ্টার আওয়াজ, শোঁ শোঁ বা গুনগুন শব্দ থাকতে পারে। এতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে এবং কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এ সমস্যায় ভুগলে হতাশাও দেখা দিতে পারে।

অবজেকটিভ টিনিটাস
অবজেকটিভ টিনিটাসে রোগীর শরীর থেকেই অস্বাভাবিক শব্দের অনুভূতি তৈরি হয়। এর মধ্যে বায়ুপ্রবাহের শব্দ, ঘূর্ণায়মান রক্তপ্রবাহ কিংবা মাথা বা কানের ভেতরের মাংসপেশির সংকোচনের শব্দ থাকতে পারে। এ ধরনের টিনিটাস চিকিৎসক স্টেথোস্কোপের সাহায্যেও শুনতে পারেন।

অডিটরি হ্যালুসিনেশন
আরেক ধরনের সমস্যা হলো অডিটরি হ্যালুসিনেশন। এ ক্ষেত্রে রোগী নির্দিষ্ট সময় পরপর কথা বলা বা কোলাহলের মতো শব্দ শুনতে পারেন, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। সাধারণত মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ থেকে এ ধরনের শব্দের অনুভূতি তৈরি হয়। মানসিক রোগীদের মধ্যে, বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়ায়, এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। কথা বলা বা গানের শব্দ শোনার মতো অভিজ্ঞতাও হতে পারে। টিমপেনোপ্লাস্টি বা টিমপেনোটোমির মতো কানের কিছু অস্ত্রোপচারের পরও টিনিটাস হতে পারে। কিছু ওষুধ ও মাদক, যেমন কেটামিন, হেরোইন ও মারিজুয়ানার কারণেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টিনিটাসের কারণ
টিনিটাসের কারণের মধ্যে রয়েছে কানের বিভিন্ন সমস্যা। বহিঃকর্ণে কানের ময়লা বা খৈল, কেরাটোসিস অবটুর‌্যান্স এবং মধ্যকর্ণে অটোস্কেরোসিস, অটাইটিস মিডিয়া উইথ ইফিউশন বা পানি জমার মতো সমস্যা এটির কারণ হতে পারে। টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট ডিজঅর্ডারও এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্তঃকর্ণের রোগের মধ্যেও টিনিটাস হতে পারে। এর মধ্যে মিনিয়ার্স ডিজিজ, শব্দদূষণজনিত বধিরতা, অটোটক্সিসিটি বা কিছু ওষুধের কারণে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া এবং অন্তঃকর্ণের প্রদাহ উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া নিউরো-অটোলজিক কারণের মধ্যে গ্লোমাস টিউমার ও অ্যাকসটিক নিউরোমা রয়েছে। কানে আঘাতের পরও টিনিটাস হতে পারে। সাধারণ কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপ, নিম্ন রক্তচাপ, হাইপোগ্লাইসেমিয়া ও মাইগ্রেনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

টিনিটাসের কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মধ্যে টিউনিং ফর্ক টেস্ট, পিওর টোন অডিওমেট্রি, টিম্প্যানোমেট্রি, এসআরটি, টোন ডিকে ও বিইআরএ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ইন্টারনাল অডিটরি ক্যানেলের এক্স-রে এবং মাস্টয়েডের এক্স-রেও করা হতে পারে। রুটিন রক্ত পরীক্ষার মধ্যে রক্তের শর্করা, রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর ও অ্যান্টিনিউক্লিয়ার অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়।

টিনিটাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ডেফনেস অ্যান্ড আদার কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারসের (এনআইডিসিডি) তথ্য অনুযায়ী, কানে শোঁ শোঁ, গুনগুন, ঘণ্টা বাজা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গেলে প্রথমে এর কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। কানের ময়লা জমা, কানের সংক্রমণ, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শ, মাথা বা ঘাড়ে আঘাত এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে টিনিটাস হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন এ সমস্যা থাকলে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এনআইডিসিডি এর তথ্য অনুযায়ী, টিনিটাসের সঙ্গে শ্রবণশক্তি কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে হিয়ারিং এইড ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া শব্দ থেরাপির মাধ্যমে টিনিটাসের শব্দ কম অনুভূত হতে পারে। ঘুমের সময় হালকা বৃষ্টি, ঢেউ, ফ্যান বা অন্যান্য স্বস্তিদায়ক শব্দ ব্যবহার করেও অনেকে উপকার পান। 

আরও দেখুন: শিশুকে আত্মনির্ভরশীল করতে ছোটবেলা থেকেই যেসব প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতা শেখানো জরুরি

অতিরিক্ত শব্দ থেকে কান সুরক্ষিত রাখার পরামর্শও দিয়েছে এনআইডিসিডি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় বা বারবার উচ্চ শব্দের সংস্পর্শ শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং টিনিটাসের কারণ হতে পারে। তাই অতিরিক্ত শব্দ এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন হলে কানের সুরক্ষা ব্যবহার করা এবং হেডফোনে অতিরিক্ত শব্দে গান না শোনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টিনিটাসের সঙ্গে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে বিষয়টি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার সঙ্গে কানে শব্দ, কান বন্ধ লাগা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে শ্রবণশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

এ ছাড়া কানে শব্দটি যদি হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়, তাহলে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো জরুরি। এনআইডিসিডি এর মতে, এ ধরনের টিনিটাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা আল্ট্রাসাউন্ডের মতো পরীক্ষার মাধ্যমে অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে দেখা হতে পারে। তবে কানে এ ধরনের কোনো সমস্যা বা ঘণ্টা বাজা, শোঁ শোঁ বা গুনগুন শব্দ শোনা গেলেই টিনিটাস হয়েছে এমন না ভেবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তথ্যসূত্র: এনআইডিসিডি

কুতুবদিয়া-মগনামা ঘাটে জিয়ারতকারীদের ওপর হামলা, নিরাপত্তাহ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
শরণার্থী আইন ও সুরক্ষা নিয়ে এসইউবিতে দিনব্যাপী বুটক্যাম্প অ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কর অঞ্চল-দিনাজপুরে জনবল নিয়োগ, আবেদন  অনলাইনে
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
নতুন তিন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
রাজুকে ব্লেইম দিয়ে অপদস্থ করা হয়েছে, আমরা তার সাথে আছি: রাশ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অধিদ…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950