অ্যান্টাসিডতে স্বস্তি দিতে পারে ৭ পানীয় © এআই সম্পাদিত ছবি
বদহজম, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ঝাল-চর্বিযুক্ত খাবার কিংবা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে অনেকেই বুকজ্বালা, গ্যাস, টক ঢেকুর ও অ্যাসিড রিফ্লাক্স জাতীয় সমস্যায় প্রতিনিয়ত ভোগেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন করেন। তবে, এসব হালকা উপসর্গের ক্ষেত্রে কিছু প্রাকৃতিক পানীয় অনেক সময় অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
মৌরির পানি: খাওয়ার পর মৌরি চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস বহু পুরোনো। মৌরিতে থাকা অ্যানিথল নামের যৌগ পাকস্থলীর পেশি শিথিল করতে, হজমে সহায়তা করতে এবং গ্যাস ও পেটফাঁপা কমাতে সাহায্য করতে পারে। কয়েক ঘণ্টা মৌরি পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি পান করলে বুকজ্বালা ও অম্বলের উপসর্গ কিছুটা কমতে পারে।
জিরার পানি: জিরায় থাকা থাইমল নামের তেল লালাগ্রন্থিকে সক্রিয় করে এবং হজমকারী রস ও এনজাইমের নিঃসরণ বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং বদহজম, গ্যাস ও পেটফাঁপার সমস্যা কমতে পারে। জিরা ভিজিয়ে রাখা পানি পান করলেও উপকার মিলতে পারে।
লবঙ্গের পানি: লবঙ্গে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহ কমাতে এবং হজমে সহায়তা করতে পারে। লবঙ্গ চূর্ণ করে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি ছেঁকে পান করলে বুকজ্বালা, গ্যাস ও অম্বলের অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
আদার পানি: হজমের সমস্যায় আদার ব্যবহার বহুদিনের। হালকা গরম আদার পানি বা আদা চা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করতে, হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এর ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালার উপসর্গ কমতে পারে।
এলাচের পানি: এলাচ হজমে সহায়ক এনজাইমের ক্ষরণ বাড়াতে এবং পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এলাচ গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ছেঁকে পান করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে।
ধনিয়ার পানি: ধনিয়া পাচক রস ও এনজাইমের নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবার হজমে সহায়তা করে। কয়েক ঘণ্টা ধনিয়া ভিজিয়ে রাখা পানি ছেঁকে পান করলে বদহজম ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।
আরও পড়ুন : ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণে রাখুন এই ৫ খাবার, কমতে পারে ক্লান্তি ও ডার্ক সার্কেল
হালকা গরম পানি: অনেক সময় সাধারণ ঈষদুষ্ণ পানিও উপকারী হতে পারে। খাবারের পর হালকা গরম পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়, অন্ত্রের কার্যক্রম সচল থাকে এবং খাবার দ্রুত ভাঙতে সহায়তা করে। এতে বুকজ্বালা ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বুকজ্বালা বা অম্বলের সমস্যা যদি ঘন ঘন হয়, দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা তীব্র ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, বমি কিংবা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, এসব উপসর্গ গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স রোগ (জিইআরডি), আলসার বা অন্য কোনো জটিল রোগের লক্ষণও হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া এসব পানীয় বা প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যান্টাসিড খাওয়া উচিত নয়। এছাড়া এসব অ্যান্টাসিড স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।