‘পাওয়ার ন্যাপ’ বা স্বল্প সময়ের দুপুরের ঘুম শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত উপকারী © এআই সৃষ্ট ছবি
দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই চোখে ঘুম আসে। অনেকেই ভাবেন, এখন ঘুমালে কাজ করতে সমস্যা হবে। তাই ব্যস্ততা বা কাজের চাপে সে ঘুমকে উপেক্ষা করেন। অথচ পুষ্টিবিদদের মতে, মাত্র ২০ মিনিটের একটি ‘পাওয়ার ন্যাপ’ বা স্বল্প সময়ের দুপুরের ঘুম শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শুধু ক্লান্তি দূরই করে না, বরং কর্মক্ষমতা বাড়ানো, মানসিক চাপ কমানো এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতেও সাহায্য করে।
পাওয়ার ন্যাপ কি?
পাওয়ার ন্যাপ হলো, দিনের বেলা ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য ১০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ঘুম। একে ‘ভাত ঘুম’ বা তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবও বলা হয়ে থাকে। এই ঘুমের মূল উদ্দেশ্য হলো- গভীর ঘুমে প্রবেশ করার আগেই জেগে ওঠা, যা শরীর ও মস্তিষ্ককে রিচার্জ করতে সাহায্য করে। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর ঝিমুনি নয়, বরং সতেজ অনুভূতি নিয়ে আবার কাজে ফেরা সম্ভব হয়।
জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ ও উপদেষ্টা আয়েশা সিদ্দিকার মতে দুপুরের ঘুমের উপকারিতা-
১. কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক
দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ২০ মিনিটের একটি পাওয়ার ন্যাপ মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এ কারণেই বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য স্বল্প সময়ের বিশ্রামের সুযোগ রাখছে।
২. দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে
পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাওয়া মস্তিষ্ক তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারে। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কাও কমে। যেসব কাজে দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত জরুরি, সেখানে পাওয়ার ন্যাপ বেশ কার্যকর।
৩. শরীরে ফিরিয়ে আনে নতুন উদ্যম
অল্প সময়ের ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং নতুন করে কাজ করার শক্তি জোগায়। বিশেষ করে দুপুরের পর যে ঝিমুনি বা অবসাদ আসে, পাওয়ার ন্যাপ তা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ফলে দিনের বাকি সময়টুকু আরও প্রাণবন্তভাবে কাজ করা যায়।
৪. মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে
অতিরিক্ত কাজের চাপ বা মানসিক ক্লান্তি দূর করতেও পাওয়ার ন্যাপ কার্যকর। অল্প সময়ের বিশ্রামে মস্তিষ্ক কিছুটা স্বস্তি পায়, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এইচএসসি গ্রহণ বিঘ্নিত হলে সারা দেশেই পরীক্ষা স্থগিত
৫. মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়ায়
স্বল্প সময়ের ঘুমের পর অনেকেই নিজেকে আরও সতর্ক ও সজাগ অনুভব করেন। এতে কাজে মনোযোগ বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মনোসংযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
৬. স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে
গবেষণায় দেখা গেছে, পাওয়ার ন্যাপ নতুন শেখা তথ্য মস্তিষ্কে সংরক্ষণে সহায়তা করে। ফলে শেখার ক্ষমতা বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তিও উন্নত হয়।
৭. মেজাজ ভালো রাখে
অল্প সময়ের বিশ্রাম মনকে সতেজ করে এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। পাওয়ার ন্যাপের পর অনেকেই নিজেকে বেশি প্রফুল্ল ও ইতিবাচক অনুভব করেন। এটি বিরক্তি কমিয়ে সারাদিন ভালো মেজাজ বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাওয়ার ন্যাপ যেন ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এর চেয়ে বেশি সময় ঘুমালে শরীর গভীর ঘুমে চলে যেতে পারে। তখন ঘুম ভাঙার পর ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে এবং রাতের স্বাভাবিক ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা থাকে।