প্রতীকী ছবি: সকালের ঘুম © সংগৃহীত
অলসভাবে সকালটা শুরু করে সারাদিনের দৌড়াদৌড়ি। দিনশেষে ক্লান্তি এতটাই বাড়ে যে শরীর ঝিমিয়ে পড়ে। কোনো কাজে পাওয়া যায় না উৎসাহ। খিদেও কমে যায়। রাতে আবার আসতে চায় না ঘুম। এসব সমস্যা প্রায় প্রত্যেকেরই। তবে এর জন্য ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সকালের কিছু অভ্যাস রপ্ত করে নিলেই দিনভর চনমনে ও সতেজ থাকতে পারবেন অনায়াসেই। বেশির ভাগ মানুষকেই বলতে শুনবেন, রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না, সকালে উঠে মাথাঘোরা বা বমি ভাব থাকে। খিদে কমছে, যখন খিদে পাচ্ছে তখন জাঙ্ক ফুড খেয়ে ফেলছেন। ফলে বিপদ ঘনাচ্ছে অজান্তেই। চুপিসারে বাড়ছে সুগার, রক্তচাপ হয় ঊর্ধ্বে উঠছে, নাহলে কমছে। স্থূলত্ব, থাইরয়েডের মতো রোগ জীবনধারার সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে। এর থেকে নিষ্কৃতি পেতে যে পাঁচটি বিশেষ অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।
ঘুম থেকে উঠেই রোদ পোহান
ঘুম থেকে চোখ খুলে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখাই বেশির ভাগের অভ্যাস। ডিজিটাল স্ক্রিনের কৃত্রিম আলো দিনের শুরু থেকেই স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি মিনিট দশেকও রোদে থাকা যায়, তা হলে যেমন দৃষ্টিশক্তি উন্নত হবে, তেমনই শরীরে হরমোনের ক্ষরণ নিয়ম মেনে হবে। ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে ঝিমুনি থাকবে না। শরীর চনমনে হয়ে উঠবে।
চা-কফির আগে পানি ও ইলেকট্রোলাইট
সারারাত ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে পানি ও ইলেকট্রোলাইট বা ডিটক্স পানীয় পান করা ভালো। পানিতে সামান্য নুন ও চিনি মিশিয়ে ইলেকট্রোলাইট বানাতে পারেন। অথবা মেথি-জিরে ভেজানো পানি, ধনে ভেজানো পানি খেলেও উপকার হবে।
জাপানি কৌশলে হাঁটা
শরীরচর্চা জরুরি। যিনি জিমে যান বা ঘরেই ঘাম ঝরিয়ে নানা ওয়ার্কআউট করেন, তিনি দিনভরই বাড়তি শক্তি পাবেন। যার সেই অবকাশ নেই, তিনি হাঁটতে পারেন অন্তত ২০-৩০ মিনিট। সে হাঁটা হনহনিয়ে নয়, জাপানি কৌশলে হেঁটে দেখতে পারেন। একে বলে ‘নাম্বা আরুকি’। জাপানের খুব প্রাচীন এক পদ্ধতি যাতে সারা শরীরের ব্যায়াম হয়। এভাবে হাঁটতে হলে ডান পা এগিয়ে দেওয়ার সময় ডান হাতটিও সামনে যাবে। অর্থাৎ, শরীরের একই দিকের হাত ও পা একই সঙ্গে এগোবে ও পিছোবে। সাধারণত উলটোটাই হয় হাঁটার সময়। এভাবে হাঁটলে ক্লান্তি আসে না, অস্থিসন্ধির ব্যথাও কমে যায়।
সকালের খাবারে প্রোটিন
সকালের খাবারে কার্বোহাইড্রেট যেমন, পাউরুটি, রুটি, পরোটা বা লুচির চেয়ে প্রোটিন যেমন ডিম, ছানা, ওট্স বা নানা রকমের বাদাম থাকা জরুরি। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না। খিদে পাওয়ার হরমোন ঘেরলিনকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে দিনভর বিঞ্জ ইটিংয়ের প্রবণতা কমে।
৫ মিনিট যোগব্যায়াম
পেশাগত ক্ষেত্রে হোক বা ব্যক্তিগত জীবনে, মানসিক চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়। উদ্বেগ হবেই, দুশ্চিন্তাও হবে। তবে তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার কৌশল জেনে রাখতে হবে। নিয়ম করে অভ্যাস করতে পারে প্রাণায়াম বা যোগব্যায়াম। পিঠ টানটান রেখে প্রথমে মুখ দিয়ে শ্বাস ছেড়ে ফুসফুসের সব বাতাস বার করে দিতে হবে। আবার গভীর শ্বাস নিয়ে যতটা সম্ভব ফুসফুসে বাতাস ভরে নিতে হবে। এরপর যতক্ষণ সম্ভব শ্বাস আটকে রাখুন। আবার জোরের সঙ্গে সব বাতাস বার করে দিন। হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও এই প্রাণায়াম উপকারী।