সকালের নাশতায় তিসি, স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে যা জানা জরুরি

২৫ জুন ২০২৬, ০১:১৪ PM , আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০১:১৫ PM
সুপারফুড ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি

সুপারফুড ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি © এআই সৃষ্ট ছবি

সকালের নাশতায় ওটস, দই কিংবা স্মুদির সঙ্গে এক চামচ তিসি মিশিয়ে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ক্ষুদ্র বীজকে অনেকে ‘সুপারফুড’ বলেও আখ্যা দেন। হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখা, হজমশক্তি উন্নত করা কিংবা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে তিসির উপকারিতা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। তবে অতিরিক্ত খেলে বা বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থায় এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুষ্টিবিদদের মতে, তিসি বা ফ্ল্যাক্স সিডকে সুপারফুড বলা হয় এর উচ্চ পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্য উপকারিতার কারণে। ছোট এই বীজে রয়েছে উদ্ভিজ্জ উৎসের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড), খাদ্যআঁশ (ফাইবার), প্রোটিন, লিগন্যান নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিসিতে থাকা লিগন্যানের পরিমাণ অন্যান্য অনেক উদ্ভিজ্জ খাদ্যের তুলনায় বেশি। এ ছাড়া এতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে, আর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়।

সকালে ফ্ল্যাক্স সিড খাওয়ার উপকারিতা
হজমশক্তি উন্নত করে: ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে। সকালে এটি খেলে হজমপ্রক্রিয়া ভালো থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। এটি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে: ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় ফ্ল্যাক্স সিড দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ও পরিমিত ফ্ল্যাক্স সিড গ্রহণ রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস: ফ্ল্যাক্স সিডে থাকা লিগন্যান শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

কীভাবে খাওয়া ভালো?
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত গুঁড়া করা ফ্ল্যাক্স সিড খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ পুরো বীজ অনেক সময় হজম না হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে। এটি পানি, স্মুদি, ওটস, দই বা সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

আরও পড়ুন : কফি পান করছেন? স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত এই ৫ উপাদান হতে পারে ক্ষতির কারণ

সতর্কতা
অতিরিক্ত খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে: হঠাৎ বেশি পরিমাণে ফ্ল্যাক্স সিড খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি: ফাইবার বেশি থাকায় ফ্ল্যাক্স সিড খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান না করলে উল্টো হজমে সমস্যা হতে পারে।

কিছু ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া: রক্ত পাতলা করার ওষুধ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ফ্ল্যাক্স সিড খাওয়া উচিত নয়।

বিশেষ অবস্থায় সতর্কতা: গর্ভবতী নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের খাদ্যতালিকায় ফ্ল্যাক্স সিড যুক্ত করার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?
পুষ্টিবিদদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ১ থেকে ২ টেবিল চামচ গুঁড়া করা ফ্ল্যাক্স সিড যথেষ্ট। তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্ল্যাক্স সিড কোনো জাদুকরি খাবার নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এটি গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যেতে পারে। বিঃদ্রঃ স্বাস্থ্যবিষয়ক এ তথ্যগুলো সাধারণ সচেতনতার জন্য। কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বা বিশেষ শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪৩ বিসিএসের নন-ক্যাডারের ফলাফল আবার প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর…
  • ২৫ জুন ২০২৬
স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে কুরাসাও, আজও কি পারবে বিশ্বকে চমকে দ…
  • ২৫ জুন ২০২৬
ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার কমিটি ঘোষণা: সভাপতি মুহ…
  • ২৫ জুন ২০২৬
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ ইউপিডিএফের ৩ সদস্য …
  • ২৫ জুন ২০২৬
সাজিনাস হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু: সাংবাদিকদের ডেকে হুমকি, …
  • ২৫ জুন ২০২৬
টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশে তৃতীয় গ্রিন…
  • ২৫ জুন ২০২৬