আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেলেও উপকার মিলছে না? ভুল করছেন যেখানে

০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৩ PM , আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৩ PM
আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেলেও উপকার মিলছে না? ভুল হচ্ছে এখানেই

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেলেও উপকার মিলছে না? ভুল হচ্ছে এখানেই © টিডিসি ফটো

একটানা ক্লান্তি, মাথা ঝিমুনি, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়, শ্বাস নিতে কষ্ট ইত্যাদি উপসর্গগুলোকে অনেকেই কাজের চাপ বা বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। অথচ এগুলো রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। ঋতুস্রাব, অপুষ্টি ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে আয়রনের ঘাটতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এই কারণে এখন অনেকেই সচেতনভাবে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খান, কেউ কেউ আবার চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত আয়রনের ওষুধও খেয়ে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সব সময় শুধু আয়রন খেলেই সমস্যার সমাধান হয় না। কারণ শরীর সেই আয়রন কতটা গ্রহণ বা শোষণ করতে পারছে, সেটিই সবচেয়ে বড় বিষয়।

পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু ভুল খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণে শরীরে আয়রন শোষণের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ে না, উপসর্গও থেকে যায়।

চলুন দেখে নেওয়া যাক আয়রন শোষণ কমে যাওয়ার কারণগুলো-

১. খাবারের সময় চা-কফি পান করা: চা ও কফিতে থাকা ট্যানিন ও ক্যাফেইন আয়রনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শোষণক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এমনকি খাবারের এক ঘণ্টা আগে বা পরে চা-কফি খেলেও আয়রন শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

২. খাবারে ভিটামিন সি না থাকা: প্রকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে তুলনামূলকভাবে কম শোষিত হয়। ভিটামিন সি না থাকলে এই আয়রন প্রায় অকার্যকরই থেকে যায়। লেবু, আমলকি, পেয়ারা, কমলালেবু আয়রনের শোষণ বহুগুণ বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. ক্যালশিয়াম ও আয়রন একসঙ্গে খাওয়া: দুধ, দই, পনির বা ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্ট একসঙ্গে নিলে আয়রন শোষণ ব্যাহত হয়। তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবার ও ক্যালশিয়ামযুক্ত খাবার একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। 

৪. থাইরয়েড ও অন্যান্য ওষুধের প্রভাব: থাইরয়েডের ওষুধ, অ্যান্টাসিড বা কিছু দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করে। এসব ওষুধ ও আয়রন গ্রহণের সময় আলাদা না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

৫. অম্বল, গ্যাস্ট্রিক ও পাকস্থলীর সমস্যা: পাকস্থলীর অ্যাসিড আয়রন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন অম্বল বা গ্যাস্ট্রিক থাকলে পাকস্থলীর অ্যাসিড কমে যায়, ফলে আয়রন শোষণও কমে যায়।

৬. অন্ত্রের সমস্যা: আইবিএস, কৃমি সংক্রমণ বা অন্ত্রের প্রদাহ থাকলে খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ ঠিকভাবে হয় না। এই ক্ষেত্রেও আয়রনের ঘাটতি থেকে যায়।

৭. অনিয়মিত খাবার ও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস আয়রন শোষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সমাধানে করণীয়

আয়রনের ঘাটতি পূরণে শুধু ওষুধ নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস, খাবারের সময় ও ওষুধ গ্রহণের নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্যাস্ট্রিক বা হরমোনজনিত সমস্যার চিকিৎসা করানোও জরুরি। [এই লেখাটি সচেতনতার জন্য। যে-কোনো সমস্যা সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে এবং কার্যকর ফল পেতে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।]

জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
আওয়ামী লীগ ফেরাতে ‘চেষ্টারত শিক্ষকদের’ হুঁশিয়ারি দিল ঢাবি প…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
এক দফার সেনাপতি তারেক রহমান, আন্দোলনের অগ্রগামী ভূমিকায় ছিল…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস: বিএমইউতে দোয়া মাহফিল, উন্নত খাবার …
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ঝালকাঠিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত, জুলাই যোদ্ধাদের সং…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
মোদির ভিডিও বিতর্কে জাকারবার্গকে ক্ষমা চাইতে ৩ দিন সময় দিল …
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬