আলী লারিজানি © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় যাওয়ার খবর পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী লারিজানি। সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, 'তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করবে না।' মূলত ওয়াশিংটনের সাথে তেহরান আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে বলে যে খবর রটেছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই কঠোর অবস্থান নিলেন তিনি।
বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে লারিজানিকে ইরানের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গত আগস্টে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পারমাণবিক আলোচনা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামলাচ্ছেন। যদিও গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, লারিজানিই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরুর ডাক দিয়েছিলেন, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে লারিজানি বিক্ষোভকারীদের ‘শহরকেন্দ্রিক আধা-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও লারিজানি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দরকষাকষিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অতীতে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর দেওয়া প্রস্তাবকে ‘চকলেটের বিনিময়ে মুক্তা দেওয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সুর কিছুটা নরম করে বলেছিলেন, আমেরিকার উদ্বেগের জায়গা যদি এটি হয় যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে আগানো উচিত না, তবে সেই সমস্যার সমাধান আলোচনা সাপেক্ষে সম্ভব।
শনিবার ইরানের ওপর হামলার ঘটনার পর রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে লারিজানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, 'কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।' ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্মগ্রহণকারী দর্শনের পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই কূটনীতিক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন। বর্তমানে ইরানের নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরির এই সংকটময় মুহূর্তে লারিজানি নিজেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।