সৌদি ফুটবল দল © সংগৃহীত
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারানো সৌদি আরব এবার উরুগুয়ের বিপক্ষেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত এক ড্র আদায় করে নিয়েছে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে।
ম্যাচের ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে হাসান আল তামবাকতির হেডের বল উরুগুয়ের গোলরক্ষক নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। সেই সুযোগে আবদুলেলাহ আল-আমরি কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে সৌদি আরবকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। রক্ষণ ও গোলকিপিংয়ের এই ভুলের মাশুল দিয়ে উরুগুয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে পিছিয়ে থেকে।
বিরতির পর সমতা ফেরানোর জন্য লাতিন আমেরিকার দলটি মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে। ম্যাচের ৭০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পরও সৌদি আরবের রক্ষণভাগ উরুগুয়ের একের পর এক প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়। অবশেষে ম্যাচের ৮০ মিনিটে মাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর দারুণ এক গোলে উরুগুয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায়। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই দুই দল মাঠ ছাড়ে।
মাঠের পরিসংখ্যানে উরুগুয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস ম্যাচের আসল নায়ক হয়ে ওঠেন। উরুগুয়ে পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে এবং ৯২ শতাংশ নির্ভুলতায় ৫৮৪টি পাস খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। তারা সৌদি আরবের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২৭টি শট নেয় এবং এর মধ্যে ১০টি শটই ছিল লক্ষ্যে।
বিপরীতে সৌদি আরব মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রেখে লক্ষ্য বরাবর ৩টি শটসহ মোট ৭টি শট নিতে সক্ষম হয়। উরুগুয়ে ১৪টি কর্নার আদায় করে নিলেও সৌদি গোলরক্ষক আল-ওয়াইস একাই ৯টি নিশ্চিত গোল আটকে দেন। ম্যাচে সৌদি আরব ১১টি ফাউল ও ১টি হলুদ কার্ড পায় এবং উরুগুয়ে ৬টি ফাউল করার পাশাপাশি ৬ বার অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। শক্তির বিচারে উরুগুয়ে এগিয়ে থাকলেও সৌদি আরবের চমৎকার রক্ষণ ও গোলকিপারের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত সমতায় শেষ হয়।