স্বাস্থ্য সচিবকে বিদায় ফুলেল সংবর্ধনা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী © সংগৃহীত
চুক্তি বাতিলের ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন দিন আগে বিদায় নিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তার সম্মানে এক অনাড়ম্বর বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত উপস্থিত ছিলেন।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানের চাকরির বয়স প্রায় সাড়ে ৩৪ বছর। চাকরির স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হলে গত ৩০ ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৯ সচিবের চুক্তি বাতিল করে। এর মধ্যে সাইদুর রহমানও আছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ পান মো. সাইদুর রহমান। এর আগে তিনি এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ছিলেন। পরে গত বছর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব পদ ন্যস্ত করা হয় তার ওপর।
বুধবার বিদায় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, খুব কম সময়ের জন্য স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমানের সাথে কাজ করার সুযোগে দেখেছি তিনি একজন স্মার্ট, ধীর ও কর্মক্ষম কর্মকর্তা। চাকরি থেকে অবসর গেলেও তার কাছ থেকে সমাজ অব্যাহতভাবে সেবা পাবে বলে বিশ্বাস করি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত বলেন, বিদায়ী স্বাস্থ্য সচিব চাকরিতে যেমন দক্ষতা দেখিয়েছেন, তেমনি বয়স্কদের নিয়ে তিনি যে চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তা প্রশংসনীয়। স্বাস্থ্য খাতে তার অভিজ্ঞতা বিভিন্নভাবে জনসাধারণের কাজে লাগবে বলে আশা করি।
বিদায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্বপালনকালে মো. সাইদুর রহমান জনসাধারণের জন্য স্বাস্থ্য সেবা সহজ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন পদ সৃজন ও নিয়োগে দক্ষতার পরিচয় দেন। তার কর্মকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেশকিছু প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন করা হয়।
তার বিদায়ে আবেগাপ্লুত কর্মকর্তারা বলেন, নিয়মিত চাকরির পাশাপাশি তিনি জনহিতকর কার্যেও সম্পৃক্ত আছেন যাতে মানুষের প্রতি তার দরদ ও ভালবাসা প্রকাশ পায়।
বিদায়ী স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপালনকালে তাকে সহযোগিতার জন্য সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের সহযোগিতা নিলে সেবা প্রদান ফলপ্রসূ হবে। চক্ষু অপারেশন, হৃদরোগের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সাধারণ ও জটিল চিকিৎসায় এনজিওরা সহযোগিতা করছে। এই সহযোগিতা আরো বেশি করে নেওয়া যেতে পারে, যেহেতু সরকারের সম্পদ ও জনবলের সংকট রয়েছে। এ সময় প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা বাড়াতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।