বুধবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী © সংগৃহীত
স্বাস্থ্যখাতে জনবল ঘাটতি পূরণে শিগগির স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরি চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধলপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মশার ওষুধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে জনবল ঘাটতি পূরণে শিগগির স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরি— ফ্যামিলি প্ল্যানিং ওয়ার্কার, মিডওয়াইফ, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট, টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নেগেটিভ চিন্তা দিয়ে শুরু করা ভালো নয়। আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ শুরু করেছি। কোথাও সমস্যা হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
এ সময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সকলকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি— সবার প্রতিই আমাদের সমান দায় রয়েছে। আমরা জনগণের প্রতিনিধি। মানুষকে শাস্তি দিয়ে নয়, বুঝিয়ে-সচেতন করে কাজ করতে চাই।
মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে সরকারের একার পক্ষে শতভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এডিস মশার জন্মস্থল যেমন ফুলের টব, টায়ার, নারিকেলের খোসা, ছোট কনটেইনারে জমে থাকা পানি— এসব পরিষ্কার রাখতে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। অনেক সময় বাড়ির ভেতরে ঢুকে কাজ করতে দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সচেতন মহলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আজ থেকে আরও পুরোদমে খাল-নালা, ডোবা ও নর্দমা পরিষ্কার এবং ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব, স্কুল-কলেজ ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করে গণসচেতনতা বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী ধাপে জরিমানা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তবে সরকার প্রথমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার পথেই এগোতে চায়।
স্বাস্থ্যখাতে চলমান ১৮০ দিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার একা সব করতে পারে না। তবে আমরা আশাবাদী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত মাত্রায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবো।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে সবার প্রতি আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। সফলতার জন্য দোয়া ও সহযোগিতা চাই।