প্রতীকী ছবি © ফাইল ফটো
শুধুমাত্র ২০১৯ সালে বিশ্বজুড়ে ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এরপরও পৃথিবীতে ধূমপায়ীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তরুণদের মাঝেও ধূমপানকে অভ্যাস হিসেবে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ল্যানসেট-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণাপত্রের বরাতে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ১৫ কোটি ধূমপায়ী বেড়েছে। আর সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবীতে মোট ধূমপায়ীর সংখ্যা ১০১ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে।
দেশে দেশে মানুষজনের ধূমপানের অভ্যাস কমাতে যতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেসব জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং একই সঙ্গে নতুন ধূমপায়ীর সংখ্যার সঙ্গে পেরে ওঠেনি। তবে গবেষকেরা তরুণদেরকে ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত করার নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
গবেষণাটিতে ২০৪টি দেশের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, নতুন ধূমপায়ীদের ৮৯ শতাংশই ২৫ বছর বয়সের আগে এই অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন। এই বয়স পেরিয়ে গেলে বেশিরভাগই ধূমপানের অভ্যাসের দিকে ঝোঁকেন না।
গবেষণাকর্মটির প্রধান লেখক মারিসা রেইটসমা বলেন, ‘আসক্তির ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা ঝুঁকিতে থাকে। প্রতিটি দেশে বছরে বছরে ব্যাপকহারে নতুন ধূমপায়ীর সংখ্যা কমাতে না পারলে তামাক মহামারি কিন্তু চলতেই থাকবে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির বিশ্বখ্যাত ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড এভালুয়েশনে গবেষণায় নিযুক্ত রয়েছেন মারিসা রেইটসমা।
ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় জানা গেছে, ২০টি দেশে পুরুষদের মাঝে বেড়েছে ধূমপানের প্রবণতা আর ১২টি দেশে বেড়েছে নারীদের মাঝে ধূমপানের প্রবণতা।
বাংলাদেশসহ মাত্র ১০টি দেশে পৃথিবীর অর্ধেক ধূমপায়ীর ঠিকানা। দেশগুলো হলো- চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, বাংলাদেশ, জাপান, তুরস্ক, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনস। এ ছাড়া এক চীনেই এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৪ কোটি ১০ লাখ ধূমপায়ীর বসবাস।