প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান © টিডিসি সম্পাদিত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে হয়রানির শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরে এসেছেন। একটি সম্মেলনে যোগ দিতে দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে বিমানবন্দরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির পর ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণের কথা ছিল তারা।
প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে জাহেদ উর রহমানের সফরের বিষয়টি গত শুক্রবারই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল। তবে বিমানবন্দরে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করায়।
অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগ তার প্রবেশ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘ সময় তাকে অপেক্ষায় রাখে। পরিচয় ও দায়িত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানায়। তবে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ এবং আত্মসম্মানের প্রশ্নে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
রবিবার (১৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। এ সময় দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারাও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। পরে অন্য একটি ফ্লাইটে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন: বেনজীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করল দুবাই, যে প্রক্রিয়ায় ফিরবেন দেশে
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান নাম একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায় থাকায় দিল্লি বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা তার নাম চিহ্নিত করেন। এরপর যাচাইয়ের জন্য তাকে আটক করা হয়।
সূত্রটি জানায়, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে তাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে এই অসঙ্গতি শনাক্ত ও সমাধান করার পর কর্মকর্তারা জাহেদ উর রেহমানকে ভারতে প্রবেশের ছাড়পত্র দেন। এ সংবাদে অবশ্য উপদেষ্টার ভারতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্তের তথ্য দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের কয়েকজন ইনফ্লুয়েন্সারের ইউটিউব চ্যানেল ব্লক করেছিল ভারত। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, তাদের বক্তব্য ভারতবিরোধী। সে তালিকায় জাহেদ উর রহমানের নামও রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। নজরদারি তালিকার ভিত্তিতে বিমানবন্দরে তাঁকে আটকে রাখা হয়। পরে ভুল বুঝতে পেরে তাকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।