ডা. জাহেদ উর রহমান © সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বিসিএসের বর্তমান সিলেবাসে মুখস্থনির্ভরতার প্রবণতা বেশি, যা মেধার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। মেধাবী তরুণদের দক্ষ করে তুলতে বিসিএস পরীক্ষার কাঠামোয় আমূল সংস্কার এবং মুখস্থনির্ভরতা কমাতে হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত গ্রিডলক থেকে শাসনব্যবস্থার নবায়ন: বিপিএসসি সংস্কার প্রতিবেদনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, বিসিএস পরীক্ষার বর্তমান কাঠামোর কারণে দেশের তরুণদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় ধরে একই পরীক্ষার পেছনে ব্যয় করছে, যা তাদের উৎপাদনশীল জীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি মনে করেন, অনেক প্রার্থী শুরুতেই বুঝতে পারেন না যে এই পরীক্ষা তাদের জন্য উপযোগী কি না।
তিনি প্রস্তাব করেন, বিসিএস পরীক্ষায় এমন একটি কার্যকর স্ক্রিনিং বা অ্যাপটিটিউডভিত্তিক ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে প্রার্থীরা অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এতে অযোগ্য বা অনুপযুক্ত প্রার্থীরা দ্রুত অন্য পেশায় যেতে পারবেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকেই ১৯-২০ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৩০ বছরের বেশি বয়স পর্যন্ত বারবার বিসিএস পরীক্ষা দেন, যা তরুণদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করছে। এই প্রবণতাকে তিনি “ডিজিজ” বা সমস্যার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন।
তিনি আরও বলেন, শুধু ছোটখাটো পরিবর্তন নয়, প্রয়োজনে কঠোর ও ‘সার্জারির মতো’ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা হয়ত সাময়িকভাবে কষ্টকর হবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে। এ ক্ষেত্রে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।